kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

বাজেট সহায়তায়

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা চায় সরকার

যাদের কাছে কখনো চায়নি, তাদের কাছেও বাজেট সহায়তা চাওয়া হচ্ছে

সজীব হোম রায়   

১৪ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা চায় সরকার

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সব হিসাব-নিকাষ নতুন করে মেলাতে হচ্ছে সরকারকে। কারণ, স্থবির অর্থনীতির স্বাভাবিক চাকা আবার কবে নাগাদ ঘুরবে অথবা ঘুরলেও তা স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে কত দিন লাগবে তা কেউ বলতে পারছে না। যেসব খাত থেকে সরকার সবচেয়ে বেশি রাজস্ব পায় সেগুলোই ধুঁকছে। তাই আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার বিকল্প পথ হিসেবে দাতাদের দিকে ঝুঁকছে। এমনকি যাদের কাছে কখনো বাজেট সহায়তা চায়নি সরকার তাদের কাছেও আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট সহায়তা চাচ্ছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন দাতা সংস্থাগুলোর কাছে বাজেট সহায়তা হিসেবে রেকর্ড সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব বিষয়টি স্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনার কারণে সব স্থবির। এ অবস্থা কত দিন চলবে তা কেউ বলতে পারছে না। তাই রাজস্ব আয় না এলে ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হয়ে যাবে। এ জন্য বাজেট ঘাটতি মেটাতে দাতাদের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। অদূর ভবিষ্যতে এটা কতটা উন্নতি হবে বলা মুশকিল। আর সরকার অভ্যন্তরীণ খাত মানে ব্যাংক থেকে অনেক ঋণ নিয়েছে। প্রণোদনাসহ নানা কাজে ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ধস নেমেছে। এ ছাড়া সরকারের কাছে দুটি পথ খোলা আছে। এর একটি হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বা টাকা ছাপানো। এতে অনেক সমস্যা হবে। তাই বৈদেশিক সাহায্য ছাড়া সরকারের গতি নেই।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, সরকার সব সময় বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পেয়ে আসছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ব্যালান্স অব পেমেন্টের ভারসাম্য রক্ষার জন্য যে ঋণ পায় তাও বাজেট সহায়তার কাজে লাগায়। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। করোনা মোকাবেলা করে আগামী অর্থবছরের বাজেট দিতে হবে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার তাই ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করছে। যাদের কাছে কখনো বাজেট সহায়তা চায়নি তাদের কাছেও এবার তা চাওয়া হচ্ছে। জাপানিজ উন্নয়ন সহযোগী ‘জাইকা’ ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ‘আইডিবি’ মতো উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ আগে কখনো বাজেট সহায়তা চায়নি। এই দুই সংস্থা প্রকল্পভিত্তিক কাজে অনুদান ও ঋণ প্রদান করে থাকে। কিন্তু এবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই দুই সংস্থার কাছে বাজেট সহায়তা খাতে অর্থ চেয়েছেন।

এর মধ্যে জাইকার কাছে বাংলাদেশি টাকায় ৮ হাজার ৪৯৬ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা ১০০ কোটি ইউএস ডলার চাওয়া হয়েছে। আর আইডিবির কাছে ১ হাজার ৬১৪ কোটি ৩৪ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা বা ১৯ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আইডিবি সদস্য দেশগুলোর জন্য কভিড-১৯ মোকাবেলায় ২৩০ কোটি ডলারের যে কৌশলগত প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই তহবিল থেকেই বাংলাদেশ এ দুই উন্নয়ন সহযোগীর কাছে অর্থ সহায়তা চেয়েছে। জাইকা ও আইডিবি অর্থ সহায়তা দিতে সম্মতি দিয়েছে। আইডিবি চলমান একটি প্রকল্প থেকে অর্থ স্থানান্তর করে বাজেট সহায়তা খাতে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এ ছাড়া চীনভিত্তিক বিনিয়োগ উন্নয়ন ব্যাংকের (এআইআইবি) কাছে আগামী দুই অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ২৪৮ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা ৫০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে চাওয়া হয়েছে ৮ হাজার ৪৯৬ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা ১০০ কোটি ডলার। আইএমএফের কাছে চাওয়া হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৭ কোটি ৬০ লাখ ২৫ হাজার টাকা বা ৭০ কোটি ডলার। আর বিশ্বব্যাংকের কাছে চলমান সহায়তার বাইরে ৪ হাজার ২৪৮ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা ৫০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে।

মন্তব্য