kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

কর্মসংস্থান তৈরিই মূল লক্ষ্য

করোনার প্রভাবে বদলে যাচ্ছে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা

আরিফুর রহমান   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার প্রভাবে বদলে যাচ্ছে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা

সব ঠিক থাকলে আর মাত্র তিন মাস পর, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে যাত্রা শুরু হবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল। ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল—এই পাঁচ বছর মেয়াদে পাঁচশালা পরিকল্পনাটি কেমন হবে তার একটি রূপরেখা এরই মধ্যে তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। কিন্তু বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ সব কিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। করোনার প্রভাবে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রাজস্ব আদায়, প্রবাসী আয়, আমদানি-রপ্তানিসহ অর্থনীতির সব সূচক স্থবির। কবে নাগাদ সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে উঠবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।

তাই খসড়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি যেভাবে সাজানো হয়েছিল, পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে তা সংশোধন করতে হচ্ছে পরিকল্পনা কমিশনকে। সংশোধিত কাঠামোতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এর পাশাপাশি অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি আমরা যেভাবে খসড়াটি তৈরি করেছি; করোনাভাইরাসের কারণে তার অনেক কিছু প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে বিশ্ব নতুন করে শুরু করবে। বাংলাদেশও তাই। কভিড-১৯-পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। পরিকল্পনায় আমরা সেদিকটাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।’

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি কেমন হতে পারে কমিশনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে একটি ধারণা পাওয়া গেল। করোনা প্রভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পসহ পুরো অর্থনীতিতে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, প্রথমে একটি বিশ্লেষণ করা হবে। সেই আলোকে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সাজানো হবে।

এদিকে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার যে খসড়া তৈরি করা হয়েছে, সেটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৫ সাল নাগাদ প্রতিবছর গড়ে ৮.৫ শতাংশ হারে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু করোনার প্রভাবে প্রবাসী আয়, রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে টান পড়ায় জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রায় সংশোধন আনতে যাচ্ছে কমিশন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কত নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় রপ্তানি, প্রবাসী আয়সহ বিভিন্ন খাতে যেসব লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে, সেসব জায়গায় পরিবর্তন আনা হবে। এরই মধ্যে ছয় লাখ প্রবাসী বাংলাদেশে ফিরে এসেছে। বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির। ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম কমে ২০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তাই প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের আয় কমে যাবে। এতে করে আগে যে হারে রেমিট্যান্স বাংলাদেশে আসত, তা কমে যাবে। আর যে ছয় লাখ বাংলাদেশি গত তিন মাসে দেশে ফিরে এসেছে, তারা অনেকে বেকার হয়ে পড়বে। ২০০৮ সালের মতো বিশ্ব হয়তো আবার আরেকটি মন্দার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এসব দিক বিবেচনা করে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

ড. শামসুল আলম কালের কণ্ঠকে আরো বলেন, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে কর্মহীনতা তৈরি হবে। প্রবাসী আয় আগের মতো আসবে না। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে আসবে। সব কিছু আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি রাখা হবে।’

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) বর্তমান পরিস্থিতিতে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পরিবর্তে দুই বছর মেয়াদি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছে।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, আগামী জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পরিবর্তে দুই বছর মেয়াদি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। যেখানে মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের অবস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয় দফা হবে, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বাস্তবায়নের সময় দুই বছর পিছিয়ে ২০২২ সালে নিয়ে যাওয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা