kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রীর প্যাকেজ

সরকারের ব্যয় ৩০০০ কোটি টাকা

সজীব হোম রায়   

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকারের ব্যয় ৩০০০ কোটি টাকা

নভেল করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। করোনা প্রভাবে সরকারের আয় কমে যাচ্ছে। গত আট মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৪৫ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকঋণও লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি। তাই প্রশ্ন উঠেছে, প্রণোদনার অর্থের সংস্থান নিয়ে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো টাকাটাই আসবে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে। সরকারকে বাড়তি তেমন কোনো টাকা ব্যয় করতে হবে না। শুধু ঋণের সুদ বাবদ তিন হাজার কোটি টাকা ভতুর্কি দিতে হবে।

এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে তা কেবল আপৎকালীন সময়ের জন্য। বিশেষ বিবেচনায় দেওয়া এ প্যাকেজে সরকারের ব্যয় তেমন বাড়বে না। কারণ পুরো টাকাটা আসবে ব্যাংকিং খাত থেকে। তাই বাজেট বাস্তবায়নে বা বাজেট ঘাটতিতে এটি কোনো চাপ ফেলবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতি মহাশঙ্কায়। করোনাভাইরাসে সৃষ্ট সংকটে দেশের অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সরকার সর্বকালের সর্ববৃহৎ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দিয়েছে। মোট চারটি (আগেরটিসহ পাঁচটি) প্যাকেজের ঘোষণা এসেছে। তবে সব প্যাকেজে সরকার ভতুর্কি দেবে না। শুধু প্রথম দুটি প্যাকেজের ক্ষেত্রে ভতুর্কি দেওয়া হবে। প্রথম প্যাকেজে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের জন্য ৩০ হাজার কোটি ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। সুদের অর্ধেক সরকার ভর্তুকি দেবে। বাকি অর্ধেক দিতে হবে উদ্যোক্তাদের। দ্বিতীয় প্যাকেজে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। এর সুদ হারও হবে ৯ শতাংশ। তবে এ ক্ষেত্রে সরকার ৫ শতাংশ সুদ ভতুর্কি দেবে। এ দুই প্যাকেজে ভতুর্কি বাবদ সরকারের খরচ বাড়বে কমই। কারণ এতে সব মিলিয়ে খরচ হবে মাত্র তিন হাজার কোটি টাকা। এই তিন হাজার কোটি টাকা বাজেট থেকে দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিচালন ঋণ থেকে তা নেওয়া হতে পারে। ভতুর্কি বাদে পুরো টাকাটাই আসবে ব্যাংক থেকে।

সাধারণত ব্যাংকগুলো সব সময়ই ঋণ দিয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী যে চারটি প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছেন তার সব সুবিধাগুলোই মূলত ঋণ হিসেবে গণ্য হবে। আর এ ঋণ আসবে সেই ব্যাংকগুলো থেকেই। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে সরকারকে কিছুই করতে হচ্ছে না। যা করার ব্যাংকগুলোই করবে। ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্ক ভিত্তিতে এ ঋণ দেওয়া হবে।

সরকার ঘোষিত চারটি প্যাকেজের বাকি দুটি মূলত তহবিল। এর একটি হলো এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ)। ব্লক টু ব্লক এলসির আওতায় কাঁচামাল আমদানি সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকার শুধু এর আকার বাড়িয়েছে। এতে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা যুক্ত হবে। এ টাকার পুরোটাই দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া প্রিশিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম নামে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধা চালু করবে। এটিও বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা করবে।

সূত্র জানায়, তবে এর আগে সরকার যে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঘোষণা করেছিল তা শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে ব্যয় করা হবে। এ টাকাটা তিন কিস্তিতে দেওয়া হতে পারে। এপ্রিল, মে এবং জুন মাসে এ টাকা দেওয়া হতে পারে। তবে পুরো প্যাকেজের জন্য সরকার পৃথক একটি নীতিমালা তৈরি করবে। ঋণের সদ্ব্যবহারের জন্যই এ নীতিমালা করা হবে। আর এর আওতায় দেওয়া হবে সহায়তা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা