kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

ফলের বাজারে ক্রেতা সংকট

ক্ষতির মুখে তরমুজ চাষিরা

সজীব আহমেদ   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফলের বাজারে ক্রেতা সংকট

পাইকারি ফলের বাজার বাদামতলীতে পর্যাপ্ত পণ্য থাকলেও ক্রেতার দেখা মিলছে না। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনাভাইরাস আতঙ্কে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কলকারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আতঙ্ক নিয়ে অনেক আগেই রাজধানী ছেড়েছে অধিকাংশ মানুষ। যারা আছে, তারাও প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হচ্ছে না। আর এসব কারণে ফলের বাজারগুলোতে ক্রেতা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে কমে গেছে ব্যবসায়ীদের ফল বিক্রি। আর বিক্রি কমে যাওয়ার ফলে পচে অনেক লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের। এভাবে চলতে থাকলে ফল ব্যবসায়ীদের প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে দাবি করেছে ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ। এদিকে করোনাভাইরাসের থাবায় ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন দেশের তরমুজ চাষিরা। ক্ষেতে তরমুজ পেকে রয়েছে কিন্তু ক্রেতা না থাকায় বিক্রি করতে পারছেন না তাঁরা।

দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ফলের বাজার পুরান ঢাকার বাদামতলী। বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ী হাজি আল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সামনে রমজান, তাই আমদানি প্রচুর। কিন্তু বাজার ক্রেতাশূন্য। তাই মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আমরা প্রচুর আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছি।’ রাজধানীর কুড়িল চৌরাস্তা এলাকার খুচরা ফল ব্যবসায়ী ইমারত হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখন খুব খারাপ অবস্থা। করোনার কারণে মানুষ এখন ঘরবন্দি। ফলে ক্রেতা নেই। দোকান খুলে বসে থাকি কিন্তু ফল বিক্রি করতে পারছি না। প্রতিদিনই কিছু না কিছু ফল নষ্ট হচ্ছে।’

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে দেশে ফলের চাহিদা থাকে খুব বেশি। সে চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই আমরা বিশাল পরিমাণ ফল আমদানি করি। বর্তমানে ফলের বাজার যে বেহাল, ক্রেতা না থাকায় ব্যবসায়ীরা ফল বিক্রি করতেই পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাব। তাই আমরা শুল্ক প্রত্যাহার চেয়ে এফবিসিসিআই এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠির মাধ্যমে আবেদন করেছি।’

এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশের তরমুজ চাষিরা। ভরা মৌসুমে তরমুজ ক্ষেতে রেখে দেওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। এসব তরমুজ স্থানীয় বাজারেও বিক্রি করতে পারছেন না চাষিরা। কেউ কেউ বাজারে নিয়ে গেলেও তেমন ক্রেতা পাচ্ছেন না। অনেকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বাড়িতে। এমন পরিস্থিতিতে দিশাহারা হয়ে পড়ছেন তাঁরা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের এ সময়টাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে তরমুজ কেনার জন্য কৃষকের বাড়ি বাড়ি ভিড় জমাতেন। করোনার কারণে এখন সারা দেশ লকডাউন হওয়ায় একজন ক্রেতাও যাচ্ছেন না কৃষকের কাছে। এনজিও বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শত শত চাষি তরমুজ চাষ করেছেন। এখন বিক্রি করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়ছেন তাঁরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা