kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

নতুন অর্থবছরের বাজেট

করোনার প্রভাব মোকাবেলায় থাকছে বিশেষ বরাদ্দ

সজীব হোম রায়   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার প্রভাব মোকাবেলায় থাকছে বিশেষ বরাদ্দ

নতুন অর্থবছর শুরু হতে আর বেশিদিন বাকি নেই। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সব কিছুই স্থবির হয়ে আছে। তাই বাধ্য হয়েই অনেকটা নীরবে চলছে বাজেট প্রণয়নের কাজ। বাজেটের বৈঠকগুলো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

আর নতুন বাজেটে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের মতো খাতগুলোতে। করোনার জন্য দেওয়া হতে পারে পৃথক বিশেষ বরাদ্দ। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাড়তে পারে বরাদ্দ এবং আওতা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, সাধারণত এই সময়ে আমরা খুব ব্যস্ত থাকি। কারণ, সামনেই বাজেট। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার নতুন করে সব পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। আন্ত মন্ত্রণালয়সহ বাজেট সম্পর্কিত বিভিন্ন বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠকও বাতিল করা হয়েছে। তবে আমরা অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নির্দেশে বাজেট প্রণয়নের কাজ করছি। নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত খাতগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি বৈঠক বাতিল করা হলেও বাজেট প্রণয়নে আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হারসংক্রান্ত অর্থনৈতিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করা হতে পারে। কারণ এই সভায়ই নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকারসহ সার্বিক বিষয়ের প্রাথমিক প্রাক্কলন নিয়ে আলোচনা হয়। করোনাভাইরাসের প্রভাব যদি আগামী মাসেও থাকে তবে বাজেট বিষয়ক আরো কয়েকটি বৈঠক বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথবা সেগুলো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হবে।

সূত্র জানায়, করোনা প্রভাবের কারণে আগামী অর্থবছরের বাজেটেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে। করোনাভাইরাসের জন্য থাকতে পারে বিশেষ বরাদ্দ। তবে বরাদ্দের পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। করোনায় কোনো বরাদ্দ দেওয়া হবে কি না তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আসতে পারে স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মোট জাতীয় বাজেটের ৪.৯২ শতাংশ এবং এটি জিডিপির ০.৮৯ শতাংশ। সেই হিসাবে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে জনপ্রতি বরাদ্দের পরিমাণ বছরে এক হাজার ৪২৭.৭৭ টাকা। করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকার আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে বিশেষ নজর দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে নতুন বাজেটে বরাদ্দ আরো বাড়তে পারে।

আগামী বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পাবে সামাজিক নিরাপত্তা খাত। এ খাতের আওতা সর্বকালের সবচেয়ে বড় হতে পারে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণে ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেটের ১৪.২১ শতাংশ এবং মোট প্রবৃদ্ধির ২.৫৮ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৬৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি শিখিয়েছে অপ্রত্যাশিত খাতের প্রয়োজনীয়তা। তাই নতুন বাজেটে অপ্রত্যাশিত খাতের বরাদ্দেও আসতে পারে বড় পরিবর্তন। চলতি অর্থবছরে সরকার অপ্রত্যাশিত খাতের জন্য দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে। আগামী বাজেটে তার পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলো ছাড়াও সরকার কর্মসংস্থানেও আলাদা গুরুত্ব দেবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা