kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

সাক্ষাৎকারে নগদের এমডি তানভীর আহমেদ মিশুক

মানুষ বাঁচলে দেশ বাঁচবে

করোনা দুর্যোগেও নিরলস কাজ করছে নগদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানুষ বাঁচলে দেশ বাঁচবে

তানভীর আহমেদ মিশুক

করোনার সামগ্রিক প্রভাব অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু একই সময়ে আমরা যেহেতু অর্থনৈতিক লেনদেন সেবা প্রতিষ্ঠান, তাই সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে নিরলসভাবে কাজ করতে হচ্ছে। নগদ ও ডাক বিভাগের হাজার হাজার কর্মীর যতটুকু স্বাস্থ্যগত প্রতিরোধক ব্যবস্থা বা সচেতনতা বজায় রাখা প্রয়োজন, তা মেনে চলছে। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সেবা ‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষদের আর্থিক সেবা দেওয়ার পাশাপাশি মানবিক সেবাও দিয়ে যাচ্ছি। সারা দেশের সব উপজেলায় আমাদের সেলস, ডিস্ট্রিবিউটরা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের কাছে বিনা মূল্যে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দিচ্ছেন। এটি কিন্তু ব্যবসার বাইরে সম্পূর্ণ মানবিক কাজ।’

দেশের এই সংকটে অনেকে এগিয়ে এসেছেন, এই মুহূর্তে নগদ মানুষের জন্য কী করছে এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি মনে করি যেকোনো সমস্যায় দুটি কাজ করা যায়। এক. সমস্যার সুযোগ নিয়ে দ্রুত অর্থ উপার্জন করা, এটা বেশ সহজ একটা কাজ। আর দুই. সমস্যার সমাধান নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করা, এতে যদি সাময়িক ক্ষতিও হয়, দীর্ঘ মেয়াদে সবার লাভ হয়। পৃথিবীর ইতিহাসও তাই বলে।

জাতির এই দুঃসময়ে আমরা (নগদ) এমন কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯ মার্চ একটি সার্কুলার দিয়ে বলেছে, দিনে প্রথম ১০০০ টাকা ক্যাশ আউট চার্জবিহীন রাখতে হবে। এবং আরো বলেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও ফার্মেসির ক্ষেত্রে কোনো সেটলমেন্ট চার্জ প্রযোজ্য হবে না। নিঃসন্দেহে এটি সরকারের খুবই ভালো উদ্যোগ। সাধারণ জনগণের কথা বিবেচনা করে আমরাই প্রথম এই সেবা চালু করেছি, যেটির সুবিধা বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগণ কিছুটা হাফ ছেড়ে বাঁচবে। নগদই সব নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও ফার্মেসির ক্ষেত্রে সেটলমেন্ট চার্জ শূন্য করে দিয়েছে। পাশাপাশি নগদের প্রধান নির্বাহী হিসেবে সব টিভি বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি এবং বিজ্ঞাপনের এই বাজেট সাধারণ মানুষের লেনদেনের খরচ কমানোর কাজে ব্যবহার হচ্ছে।

সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানও এখন অনেক ভালো উদ্যোগ নিচ্ছে? এ ব্যাপারে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সেবার কথা যদি বলি, টেলিটকের কথা বলতে হয়। সরকারি মোবাইল অপারেটরটি সবার আগে ৮ জিবি ইন্টারনেট খরচ নামিয়ে এনেছে ৮৯ টাকায়। এ ছাড়া সরকারি কেরু অ্যান্ড কম্পানি কোটি কোটি টাকা লাভের অ্যালকোহল না বানিয়ে সবচেয়ে কম দামে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করা বা সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া, পাওয়া থাকতেই পারে। আমার মনে হয় এই সময়ে সরকার যেভাবে সহায়তা করছে, ঠিক সরকারকেও আমাদের সহায়তা করা উচিত। আমি সব মোবাইল অপারেটর এবং মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসের প্রধানদের কাছে অনুরোধ করব, এই দুর্যোগে আসুন যে যার সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, মানুষ বাঁচলে দেশ বাঁচবে, আর দেশ বাঁচলে ব্যবসা বাঁচবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা