kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

করোনায় হুমকিতে পর্যটন সহায়তা চান উদ্যোক্তারা

মাসুদ রুমী   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় হুমকিতে পর্যটন সহায়তা চান উদ্যোক্তারা

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) ভয়াল থাবায় বিশ্বজুড়ে অর্থনীতির সব খাত বিপর্যস্ত। বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নানা খাতে। এর মধ্যে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতে এর বড় ধাক্কা লেগেছে। ৯ হাজার ৭০৫ কোটি টাকার ব্যবসা হারিয়েছে এই খাত। একই সঙ্গে তিন লাখ ৯ হাজার ৫০০ জন চাকরি হারাতে পারে। এই ক্ষতি পোষাতে সরকারের কাছে তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল চেয়েছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা।

দেশের পর্যটন খাতে করোনাভাইরাসের প্রভাবে আর্থিক ক্ষতির হিসাব করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর কাছে একটি চিঠি দিয়েছে টি প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের (পাটা) গ্লোবাল এক্সিকিউটিভ বোর্ড মেম্বার এবং বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান শাহীদ হামিদ। তাতে তিনি ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আর্থিক ব্যবসা হারানোর চিত্র তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে এভিয়েশন খাতে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো ব্যবসা হারাবে ৬০০ কোটি টাকার এবং এই খাতে চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে দুই হাজার জনের। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। হোটেল, রিসোর্টে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার, যেখানে চাকরি হারানোর শঙ্কা রয়েছে এক লাখ মানুষের। তিন হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হারাবে ট্রাভেল এজেন্টরা, চাকরি হারাতে পারেন ১৫ হাজার। এদিকে ট্যুর অপারেটররা (ইনবাউন্ড, আউটবাউন্ড, ডমেস্টিক, ওমরাহ) ব্যবসা হারাবেন চার হাজার পাঁচ কোটি টাকার, এ ছাড়া ৪১ হাজার মানুষ হারাতে পারেন তাঁদের চাকরি। এ ছাড়া রেস্টুরেন্ট, কফি শপ, ফাস্টফুড, বার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ব্যবসা হারাবে ৫০০ কোটি টাকার এবং চাকরি হারাতে পারে দেড় লাখ মানুষ। পর্যটকবাহী যানবাহন (ট্যুরিস্ট ভেহিকল ও ভ্যাসেল) খাতে ব্যবসা হারাবে ৫৫ কোটি টাকার, চাকরি হারাতে পারেন এক হাজার ৫০০ জন।

জানতে চাইলে প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল লিমিটেড (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব তৌফিক রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে আগামী জুন পর্যন্ত একটি প্রাক্কলিত হিসাব দিয়েছি। কারণ এই সময় পর্যন্ত আমাদের হোটেল, মোটেল, ট্যুরিস্ট প্যাকেজ বুকিং ছিল। এভাবে আমরা বেসরকারি এয়ারলাইনস ও পর্যটন খাতের ব্যাবসায়িক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। এই টার্নওভার থেকে করোনাভাইরাসের কারণে জুন পর্যন্ত আরো কতটা ক্ষতি হয় তা দেখে আমরা মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বের করব।’

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে পর্যটন খাত অনেকটাই পঙ্গু হয়ে গেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও নীতি সহায়তা চেয়েছি। পাটা বাংলাদেশের চিঠিতে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্যুরিস্ট ভেহিকল এবং বেসরকারি এয়ারলাইনসের জন্য সরকারের কাছে ১০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ছয় মাসের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের জন্য আরো ২০০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে করোনাভাইরাস সময়কালে ইউটিলিটি বিল মওকুফের দাবিও জানানো হয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে পর্যটনশিল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছিল ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)। সংগঠনটি বলছে, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটন ট্যুরের প্যাকেজ ও টিকিট বাতিল করেছেন শতভাগ বাংলাদেশি ভ্রমণকারী। টোয়াব বলছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পর্যটন মৌসুমের এই সময়ে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার আয় হতে পারত। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ কত হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি সংগঠনটি।

টোয়াব সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, ‘আউটবাউন্ড ও ইনবাউন্ড পর্যটনের বড় বাজার চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, ভারত ও ইতালিতে করোনাভাইরাসের কারণে পর্যটনশিল্পে বড় ধাক্কা লেগেছে। এই ভাইরাসের আতঙ্কে নেপাল, ভুটান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার প্রধান পর্যটন গন্তব্যগুলোয় ট্যুর প্যাকেজ ও টিকিট বাতিল করেছে শতভাগ বাংলাদেশি ভ্রমণকারী। একইভাবে বাংলাদেশে আসার পূর্বনির্ধারিত ভ্রমণও বাতিল করেছে অনেক বিদেশি পর্যটক। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন টোয়াব সদস্যরা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা