kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

লোকসান ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা

করোনায় চিংড়ি, কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি বন্ধ

►করোনার কারণে এ পর্যন্ত হিমায়িত চিংড়ি ও মাছের ২৯০টি ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে
►সংকট মোকাবেলায় সুদবিহীন ঋণের প্রয়োজন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের

সজীব আহমেদ   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় চিংড়ি, কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি বন্ধ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ এবং জীবিত কাঁকড়া রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে রপ্তানিকারকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ির এবং কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানির ভবিষ্যৎ। করোনার কারণে এ পর্যন্ত হিমায়িত চিংড়ি ও মাছের ২৯০টি ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। তাতে ৪৬০ কোটি টাকার রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ না দেওয়ায় ৯৯৯ কোটি টাকার হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ অবিক্রীত পড়ে আছে। বাংলাদেশের শতভাগ রপ্তানি আয়ের অন্যতম কৃষিভিত্তিক খাত প্রক্রিয়াজাতকৃত হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ প্রক্রিয়াকরণ ১০৫টি কারখানা আছে। এর মধ্যে মাত্র ৩৫টি কারখানা রপ্তানিতে সক্রিয় রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি করে প্রায় চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় করেছে। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৬০ লাখের বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে।

রপ্তানি আয়ে চিংড়ির পরেই জীবিত কাঁকড়ার অবস্থান। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী এ চারটি জেলায় কাঁকড়া চাষ হয়ে থাকে। করোনার কারণে রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানিকারকরা। কুঁচিয়া সারা দেশ থেকেই সংগ্রহ করা হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে গত জানুয়ারি থেকে চীনে রপ্তানি বন্ধ থাকায় মজুদ করা বিপুল পরিমাণ কাঁকড়া ও কুঁচিয়া মারা গেছে। এতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এ খাতের। কাঁকড়া ও কুঁচিয়া খাতে প্রায় চার লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। গত অর্থবছরে জীবিত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি হয় ৮০০ কোটি টাকার। বর্তমান পরিস্থিতিতে হিমায়িত চিংড়ি, মাছ এবং জীবিত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি বন্ধ। এর ফলে এ দুই খাতে ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৬০ কোটি টাকার।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত ২৯০টি অর্ডার (এলসি) বাতিল হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা। ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ না দেওয়ায় ৯৯৯ কোটি টাকার হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ অবিক্রীত পড়ে আছে।’ তিনি জানান, এখন বাগদা চিংড়ির মৌসুম শুরু হয়েছে, যা অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় কৃষকদের ঘের থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে আহরণ করতে হয়। এক গোণে (কাঁকড়া বা মাছ ধরার মৌসুম) চিংড়ি আহরণ না করলে পরবর্তী গোণ পর্যন্ত অধিকাংশ চিংড়ি মারা যায়। এই মূল্যবান চিংড়ি ঘেরে ৫০-৬০ গ্রেডে এলেই চাষিকে তা আহরণ করতে হবে। কারণ অনেক সময় বিভিন্ন ভাইরাসেও চিংড়ি মারা যায়। এ সময়ে যদি কৃষকরা বিক্রি করতে না পারে তাহলে তারা সর্বহারা হয়ে যাবে। এ খাতে ৬০ লাখের বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে। বর্তমানে এই সংকট মোকাবেলার জন্য সুদবিহীন ঋণের প্রয়োজন। আর অবিক্রীত পণ্যের জন্য দুই বছরের সুদ মওকুফ করাও প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ লাইভ অ্যান্ড চিলড ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গাজী আবুল কাশেম বলেন, ‘চীনে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন উৎসব থাকে। তখন রপ্তানির পরিমাণ বেশি থাকে এবং দামও ভালো পাওয়া যায়। তাই আমরা চীনে রপ্তানির জন্য বিপুল পরিমাণ জীবিত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া মজুদ করে রেখেছিলাম। করোনাভাইরাসের প্রভাবে গত ২৩ জানুয়ারি থেকে চীনে জীবিত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে মজুদ করা বিপুল পরিমাণ কাঁকড়া ও কুঁচিয়া মারা যায়। এর ফলে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে আমাদের।’

হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি শিল্পের সংকট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন। এদিকে জীবিত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি খাতের সংকট বর্ণনা করে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ লাইভ অ্যান্ড চিল্ড ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গাজী আবুল কাশেম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা