kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৬  মে ২০২০। ২ শাওয়াল ১৪৪১

পানির দামে দুধ বিক্রি

প্রতিদিন অবিক্রীত থাকছে ১৫০ লাখ লিটার

সজীব আহমেদ   

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পানির দামে দুধ বিক্রি

করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন দেশের দুধের খামারিরা। বর্তমানে দেশের সব মিষ্টিজাতীয় দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা দুধ বিক্রিতে বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে পানির দামে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের। এর পরও অনেক খামারি দুধ বিক্রি করতে পারছেন না। দেশে বার্ষিক প্রায় ৯৯ লাখ মেট্রিক টন দুধ উৎপাদন হচ্ছে, যা মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন ১৫০ লাখ লিটার দুধ অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। এতে খামারিদের দিনে প্রায় ৫৭ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

কুষ্টিয়া জেলা ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও লিয়াকত আলী ডেইরি ফার্মের মালিক মো. জাকিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ফার্মে বর্তমানে ৫০টি গাভি রয়েছে। দৈনিক ৩৫০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। আগে পাইকারিভাবে মিষ্টির দোকানে ৫০-৬০ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি হতো। গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশের মিষ্টির দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে রয়েছি। এদিকে আবার গো-খাদ্যের দাম বেড়েই চলছে। এখন খুচরা বাজারে ২০ থেকে ৩০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করছি। তাও মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জোর করে দিতে হচ্ছে। এর পরও আমাদের বিপুল পরিমাণ দুধ অবিক্রীত রয়ে যাচ্ছে।’

ফরিদপুর জেলা ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মার্শ অ্যাগ্রোর মালিক মীর কাশেম আলী বলেন, ‘ফরিদপুরে ছোট-বড় এক হাজারের ওপর দুগ্ধ খামার রয়েছে। আমার খামারে বর্তমানে ২০টি গাভি রয়েছে। দৈনিক দুধ উৎপাদন হয় ১২০ লিটার। কোনো উপায় না পেয়ে এখন দুধ নিয়ে লোকাল বাজারে খুচরাভাবে ১৫-২০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাও অর্ধেক দুধ বিক্রি করতে পারছে না খামারিরা। এখন সারা দেশের সব খামারির একই অবস্থা। তাই আমি সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করে খামারিদের বাঁচান।’

বরিশাল বিভাগীয় ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মানিক ডেইরি ফার্মের মালিক কামরুল হাসান খোকন বলেন, ‘বরিশাল বিভাগে প্রায় তিন হাজার ২০০ দুগ্ধ খামার রয়েছে। দৈনিক দুধ উৎপাদন হয় দুই হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন। এখন খামারিরা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২০-২৫ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করছেন। তার পরও অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে।’ ময়মনসিংহ বিভাগীয় ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হামিদ সরকার বলেন, ‘ময়মনসিংহ বিভাগে ছোট-বড় মিলিয়ে ৭০০ দুগ্ধ খামার রয়েছে। দৈনিক উৎপাদন হয় দেড় লাখ লিটার দুধ। দেশের মার্কেটগুলো বন্ধ থাকায় মিল্ক ভিটাও দুধ নিচ্ছে না। খামারিরা এখন নামমাত্র দামে খুচরা বিক্রি করছেন। এখন ধার-দেনা করে খামার চালাতে হচ্ছে। দুধ বিক্রি না হলেও তো গাভিকে খাবার খাওয়াতে হয়।’

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ এমরান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের মিষ্টির দোকানগুলো বন্ধ থাকায় প্রান্তিক পর্যায়ে খামারিদের দুধ বিক্রি করতে চরম অসুবিধা হচ্ছে। কোথাও কোথাও দুধ বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকা লিটার দরে। দেশে তিনটি বড় কম্পানির প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করে গুঁড়া দুধ তৈরির সক্ষমতা আছে। পাশাপাশি প্রায় আরো ১০-১২টি কম্পানির দুধজাতীয় পণ্য যেমন—ঘি, মাখন, ফ্লেভারড মিল্ক, আইসিক্রিম, ক্রিম তৈরির সক্ষমতা আছে। সরকারপ্রধান ও দেশের দুগ্ধ প্রসেসর কম্পানিগুলো থেকে সহযোগিতা না পেলে প্রায় ৫০ শতাংশ খামার বন্ধ হয়ে যাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা