kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

নিয়ন্ত্রক সংস্থার খসড়া বিধি

৬ লাখ টাকায় শেয়ার লেনদেন লাইসেন্স

►থাকতে হবে ৩ কোটি টাকার মূলধন, দিতে হবে ২ কোটি টাকার জামানত
►দণ্ডিত, খেলাপি শেয়ার লেনদেন সনদ পাবে না
►৬ লাখ টাকায় ট্রেক পাওয়ার বিধানে ক্ষুব্ধ বর্তমান ব্রোকারেজ হাউস মালিকরা

রফিকুল ইসলাম   

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৬ লাখ টাকায় শেয়ার লেনদেন লাইসেন্স

স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথক্করণে ডি-মিউচুয়ালাইজেশনের পর শেয়ার লেনদেনের নতুন ট্রেক বা ব্রোকারেজ ব্যবসায় সনদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বর্তমান ২৫০ জন সদস্যের পাশাপাশি ট্রেকপ্রাপ্তরা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানির শেয়ার লেনদেন করতে পারবে। নতুন ট্রেক বা ব্রেকারেজ হাউস অনুমোদপ্রাপ্তরা ডিএসইর মালিকানা পাবে না, শুধু শেয়ার লেনদেন করার সুযোগ পাবে।

এক লাখ টাকা আবেদন ফি আর পাঁচ লাখ টাকার নিবন্ধন ফি দিয়ে শেয়ার লেনদেন বা কেনাবেচায় ব্রোকার ও ডিলার সনদ পাওয়ার সুযোগের বিধান রেখে ‘ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট’ (ট্রেক) বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খসড়া বিধিতে বলা হয়েছে, ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত কিংবা ঋণখেলাপিরা ব্রোকারেজ হাউসের সনদ পাবে না। তিন কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোনো প্রতিষ্ঠান দুই কোটি টাকা জামানত দিয়ে এই সনদ নিতে পারবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রেক ইস্যু করা হয়নি। শুরুতে ২৫০ জন সদস্য ছিল, তারাই এখন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশের পুঁজিবাজার গতিশীল করতে নতুন ট্রেক সনদ প্রদান খুবই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত।

কমিশনের খসড়া এই বিধি নিয়ে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মতামত দিতে পারবে স্টেকহোল্ডাররা। তবে করোনাভাইরাসে কারণে এসময় আরো বাড়ানো হতে পারে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে। আর এই মতামতের ভিত্তিতে কোনো পরিবর্ধন কিংবা পরিমার্জনের পরই চূড়ান্ত হবে। ছয় লাখ টাকায় শেয়ার লেনদেনের সনদ পাওয়ায় ক্ষুব্ধ মতামত ব্যক্ত করছে বর্তমান সনদপ্রাপ্তরা।

তাদের মতে, এই ন্যূনতম যে ফি তা অনেক কম। ডিএসইর পর্ষদ থেকে ট্রেক ইস্যুতে ১৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছিল, কিন্তু সেটা রাখা হয়নি। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম ফি ও জামানত দিয়ে ট্রেক ইস্যু করা হলে শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগকারীর মূলধন ঝুঁকিতে পড়বে। এ ক্ষেত্রে এই ফি বাড়ানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর পক্ষ থেকে মতামত দেওয়া হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকার ২৫০ জন। ডি-মিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী, তারা ডিএসইর ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিক বা প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডার। আর ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক এখন কৌশলগত বিনিয়োগকারী। বর্তমানে চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ এই শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে।

সূত্র জানায়, ডিএসইতে শেয়ার লেনদেনে আড়াই শ ব্রোকারেজ হাউস কোটারি করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। ব্রোকাজের হাউসের মালিকদের একটি অংশ শেয়ার ব্যবসায় সক্রিয়ভাবে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, এই সক্রিয় সদস্যরা কোটারি করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারের কাছে কোনো দাবি আদায়ের ক্ষেত্রেও তারা বাজারকে ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডিএসইর বর্তমান একাধিক সদস্য কালের কণ্ঠকে জানায়, কিছু সদস্য নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থকে কাজে লাগাতে কম মূল্যে শেয়ার লেনদেনের সনদ বিক্রিতে উঠেপড়ে লেগেছে। কম মূল্যে সনদ প্রদান করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কম মূল্যে সনদ বিক্রি করা হলে বিনিয়োগকারীর মূলধন ঝুঁকিতে পড়বে।

মন্দাবস্থার কারণে পুঁজিবাজারে শেয়ার লেনদেনে খরা চলছে। বাজারে বিনিয়োগকারীর সক্রিয়তা কমে যাওয়ায় লেনদেন একদম তলানিতে নেমেছে। অনেক ব্রোকারেজ হাউস ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন করে ট্রেক ইস্যু করা হলে কতটা সহায়ক সেটা নিয়েও মন্তব্য করছেন কেউ কেউ। তবে শর্ত অনুযায়ী ডি-মিউচুয়ালাইজেশনের পাঁচ বছর পর নতুন ট্রেক ইস্যু করতে পারবে স্টক এক্সচেঞ্জ। তবে কতজন ট্রেক ইস্যু করা হবে সে বিষয়ে ডিএসইর পর্ষদে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএসইসির খসড়া বিধিতে বলা হয়েছে, এক্সচেঞ্জের প্রত্যেক প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডার একটি করে ব্রোকারেজ হাউস পাবেন। তবে বর্তমানে ২৫০ সদস্যদেরই ব্রোকারেজ হাউস রয়েছে। এখন নতুন ট্রেক ইস্যু করা হলে প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডারদের বাইরে করা হবে।

ট্রেক পাওয়ার শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, কম্পানি, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা কমিশন থেকে অনুমোদিত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান হবে না। পরিশোধিত মূলধন হতে হবে তিন কোটি টাকা। তবে নিট সম্পদের পরিমাণ সব সময় পরিশোধিত মূলধনের ৭৫ শতাংশের বেশি থাকতে হবে। কম্পানির কোনো পরিচালক ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হবেন না। পরিচালক পর্ষদের ৫০ শতাংশের বেশি উদ্যোক্তা কম্পানির পর্ষদের সদস্য হবেন না। কোনো পরিচালক সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হবেন না। পরিচালকরা অন্য কোনো ট্রেকের পরিচালক হবেন না। এক লাখ টাকার ফি দিয়ে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। এই ফি ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে এক্সচেঞ্জ বরাবর জমা দিতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করে এক্সচেঞ্জ ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে তা মঞ্জুর করবে অথবা বাতিল করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা