kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি আরো তলানিতে

ফেব্রুয়ারি শেষে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমেছে ৯.১৩ শতাংশে

জিয়াদুল ইসলাম   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি আরো তলানিতে

মন্দা ভর করেছে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতে। আট মাস ধরে টানা কমছে এ খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯.১৩ শতাংশ। আগের মাস জানুয়ারিতে যা ছিল ৯.২০ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং ৯-৬ সুদের চক্করে বেসরকারি ঋণের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। এখন নতুন আতঙ্ক করোনা ভাইরাস। ফলে সামনের মাসগুলোতে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি আরো নিম্নগামী হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

দুই বছর আগেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির চিত্র এমন ছিল না। বেশ কিছু ব্যাংকের আগ্রাসী বিনিয়োগের কারণে ওই সময় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের শুরুতে বেসরকারি ঋণপ্রবাহের লাগাম টানতে ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) কিছুটা কমিয়ে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পর থেকে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমতে থাকে। যদিও এরই মধ্যে কয়েক দফা এডিআর সমন্বয়ের সীমা বাড়ানো হলেও ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত অর্থবছরের জুন শেষে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১১.৩২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাইতে সেই বার্ষিক প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়ায় ১১.২৬ শতাংশ। এর পরের মাস আগস্টে ১০.৬৮ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ১০.৬৬ শতাংশ, অক্টোবরে ১০.০৪ শতাংশ, নভেম্বরে ৯.৮৭ শতাংশ, ডিসেম্বরে ৯.৮৩ শতাংশ, জানুয়ারিতে ৯.২০ শতাংশ এবং ফেব্রুয়ারিতে তা ৯.১৩ শতাংশে নেমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাস শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৮৯৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারির চেয়ে ৯.১ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৭০ হাজার ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১ এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ব্যতীত সব খাতে ৯ শতাংশ সুদের হার কার্যকর হবে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় হতাশা ভর করছে আর্থিক খাতে।

মন্তব্য