kalerkantho

সোমবার । ২৯ আষাঢ় ১৪২৭। ১৩ জুলাই ২০২০। ২১ জিলকদ ১৪৪১

.করোনাভাইরাস মোকাবেলা

রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অর্থমন্ত্রী

সহযোগিতা চাইলেন বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি শ্রমিক নিজ দেশে ফিরে আসায় রেমিট্যান্সের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অনেকটা চাঙ্গা করে রেখেছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে রেমিট্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়া আসন্ন বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

গতকাল বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও আইএফসির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ব শেয়ারবাজার ২৮ থেকে ৩৪ শতাংশ কমেছে। অর্থনৈতিক এই মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১.৫ শতাংশে নেমে যেতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আমরা উদ্বিগ্ন, কভিড-১৯ সংকটটি আমাদের অর্থনীতিকে বহুমাত্রিক দিক থেকে আঘাত করতে পারে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শাটডাউনের কারণে আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ায় এ শিল্প মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহযোগিতা চাইলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিদ্যমান সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফকে পাশে থাকার অনুরোধ করেন তিনি।

শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে ভিডিও কনফারেন্সে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির নিজ দপ্তর থেকে এ কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।

অপর প্রান্তে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন আইএমএফের এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের ডেপুটি পরিচালক অ্যানে মারেই, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ সেফারসহ অন্যরা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বব্যাংক এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের একটি জরুরি তহবিল ঘোষণা করে। অন্যদিকে আইএমএফ ৫০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দুই তহবিল থেকে বাংলাদেশ কত টাকা পেতে পারে তা নিয়ে গতকালের ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিশ্বব্যাংক থেকে ১০ কোটি ডলার এবং আইএমএফ থেকে ৭৫ কোটি ডলার পাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে ভিডিও কনফারেন্সে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুরো বিশ্ব সম্প্রদায় এখন একটি ক্রান্তিকাল পার করছে। করোনাভাইরাসের কারণে মানব সম্প্রদায়ের জীবন ও অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। এমন একটি মুহূর্তে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের জন্য বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তিন বছর ধরে ধারাবাহিক ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৮.১৫ শতাংশ, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি অর্থবছর সরকার ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন আশা করেছিল। বাংলাদেশের এই ঈর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি। দুর্ভাগ্যক্রমে করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের ১.১ শতাংশ জিডিপির ক্ষতি হতে পারে বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বিশ্লেষণে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে। আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির লক্ষ্য অর্জনসহ উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অপেক্ষায় আছি। এমন একটি সময়ে বাংলাদেশসহ বিশ্ব অর্থনীতি করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন। তাই বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের তহবিল থেকে একটি বড় অংশ সহযোগিতা পাওয়ার আশা করেন অর্থমন্ত্রী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা