kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন

রাজস্ব আয়ে ঘাটতি, চাপে বাজেট বাস্তবায়ন

সজীব হোম রায়   

১৩ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজস্ব আয়ে ঘাটতি, চাপে বাজেট বাস্তবায়ন

বেড়েই চলেছে রাজস্ব ঘাটতি। জানুয়ারি পর্যন্ত হিসাবে রাজস্ব ঘাটতি ২২.৮৫ শতাংশ। অবস্থা এমন যে এ ঘাটতি কোথায় গিয়ে ঠেকে তা-ই এখন দেখার বিষয়। আর এ কারণে বাজেট বাস্তবায়ন চাপে পড়ছে বলে স্বীকার করেছে খোদ অর্থ মন্ত্রণালয়। বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে জোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। গত সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৬৪ হাজার ৬৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে এনবিআর এক লাখ ২৬ হাজার ৫৭১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আদায় করতে পেরেছে। এ হিসাবে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি ৩৭ হাজার ৪৯৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। শতাংশ হিসেবে এটি ২২.৮৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন করের লক্ষ্যমাত্রা ৫৩৮ কোটি ৪৬ লাখ ১৩ হাজার ৫৬০ টাকা। জানুয়ারি পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৩৩৫ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার ৬২৩ টাকা। অর্থাৎ এখানেও ঘাটতি। বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ অটোমেশন প্রয়োজন। কিন্তু তা করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভ্যাট আদায়ে সমস্যা হচ্ছে। তা ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্র করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে রাজস্ব আয় কমে গেছে।

বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম রাজস্ব আয় কমার জন্য তিনটি কারণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কর অব্যাহতির চাপ, জনবলের অভাব, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতার জন্য লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না।

অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার রাজস্ব ঘাটতির জন্য বাজেট বাস্তবায়ন চাপে পড়ছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা আছে তা জিডিপির ১১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে যে রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে তাতে বাজেট বাস্তবায়ন করতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে। ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে। কারণ ব্যাংক খাতে ঋণ অনেক ব্যয়বহুল। এ সময় তিনি চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের জন্য লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের ওপর জোর দেওয়ার জন্য এনবিআরকে অনুরোধ করেন।

তবে তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) কিছু অর্থ অব্যয়িত থাকে। সেখান থেকে কিছু অর্থ পাওয়া যাবে। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থও পাওয়া যাবে। এগুলো বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যবহার করা যাবে।

বৈঠকে এনবিআরের একজন সদস্য বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিকল্প নেই। আর কর রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য আয়কর দাতার সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তা ছাড়া বিভিন্ন সেক্টরে কর অব্যাহতির কারণে রাজস্ব আয় কমে যায়। এটিও পর্যালোচনা করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি কাস্টমস আদায় পদ্ধতি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, কাস্টমস আদায় পদ্ধতির জন্য ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো বা এনএসডাব্লিউ’ চালু করতে হবে। ঢাকা বিমানবন্দরের কাস্টমস ব্যবস্থাপনা সিস্টেম এনবিআরের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য নির্মূল করে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি সমন্বিত কর রাজস্ব পরিকল্পনা করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা