kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

সূচক নেতিবাচক পুঁজিবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তারল্য সংকট কাটিয়ে ব্যাংকের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং তাদের সহযোগী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিটি ব্যাংককে বিশেষ তহবিল গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাড়পত্র পুঁজিবাজারে আশা জাগে। মূলধন বাড়ার খবরে সক্রিয় হন ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারী। তবে বাজার গতিশীলে বিনিয়োগকারীর আশা স্থায়ী হয়নি। আবারও পিছু হাঁটছে পুঁজিবাজার। শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায় সূচকের সঙ্গে লেনদেন আবারও আগের ধারায় ফিরেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও ব্যাংকের বিশেষ তহবিল গঠনের অনুমোদন বিনিয়োগকারীকে আশান্বিত করে। কিন্তু এখনো বিশেষ তহবিল গঠন ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে সেভাবে সাড়া মেলেনি। তারল্য সংকটের মধ্যে থাকা ব্যাংকগুলোও বিশেষ তহবিল গঠনে সক্রিয় হয়নি। প্রত্যাশার তুলনায় বাজারে কোনো প্রতিফলন হয়নি।

পুঁজিবাজারে বড় মন্দাবস্থায় স্টেকহোল্ডারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়। এতে দেশে ৫৭টি তফসিলি ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ব্যাংক নিজস্ব উৎস অথবা ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ৫ শতাংশ সুদে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও তহবিল গঠন করতে পারবে, যা পরিশোধের সময় পাবে পাঁচ বছর। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে সহযোগী বা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে ঋণ দিতে পারবে।

তহবিল গঠনের পাশাপাশি সরকারি চার ব্যাংককেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। চলতি বছরের মধ্যে এই চার ব্যাংক পুঁজিবাজারে আসার কথা। সে লক্ষ্যে আইসিবি কাজ শুরু করেছে।

মন্দাবস্থা থেকে বাজারকে জাগিয়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিলে চাঙ্গা হয়ে ওঠে পুঁজিবাজার। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় হু হু করে বাড়তে থাকে মূল্যসূচক ও লেনদেন। ৪ হাজার পয়েন্টের কাছে ঘুরতে থাকা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের কাছে উত্তীর্ণ হয়। তবে টানা উত্থানের পর পাঁচ দিন ধরে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি চলছে। আর এই বিক্রির চাপে সূচক কমছে। লেনদেনও আবার ৬০০ কোটি টাকার ঘরে নেমেছে।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, ভঙ্গুর পুঁজিবাজারে শক্তি নেই। প্রণোদনা দেওয়ার পরও জেগে উঠছে না। সাপোর্ট দিলেও কাজে আসছে না। কারণ বাজারে বেশি আছে খুদে বিনিয়োগকারী, অর্থাৎ যারা দৈনিক লেনদেন করে তাদের সংখ্যা বেশি। দীর্ঘ মেয়াদের বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কম। বাজার স্থিতিশীল ও উন্নতি করতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন। ভালো কম্পানি ও বহুজাতিক কম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে হবে। বাজারকে প্রণোদনা দিয়ে সাময়িক ভালো করা যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে বড় সংস্কার প্রয়োজন।

বাজার পরিস্থিতি : গতকাল ডিএসইতে বড় পতন হয়েছে। শেয়ার বিক্রির অব্যাহত চাপে মূল্যসূচক কমেছে ৭২ পয়েন্ট। আর লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৬২৭ কোটি টাকা। যদিও আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬২৯ কোটি টাকা।

দিন শেষে ডিএসইর সূচক দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৪৯ পয়েন্ট। ডিএসই-৩০ সূচক ৩৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫১৭ পয়েন্ট ও ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৮৪টির, কমেছে ২২৬টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৬ কম্পানির শেয়ারের দাম।

অন্য বাজর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছে ১২৮ পয়েন্ট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা