kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

বন্দর আধুনিকায়ন

৮৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডের

আরিফুর রহমান   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৮৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডের

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে এবার বড় আকারের বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি কম্পানি। দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা ডিপি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়।

বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ আট হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গত ২০ জানুয়ারি এসংক্রান্ত একটি ধারণাপত্র সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) কার্যালয়ে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। পিপিপি মডেলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় ডিপি ওয়ার্ল্ড। এই টাকা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের আধুনিকায়ন, কমলাপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) আধুনিকায়ন করতে চায় তারা। একই সঙ্গে গাজীপুরের ধীরাশ্রমে আলাদা একটি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো বা আইসিডি এবং চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বে-কনটেইনার টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণে এই টাকা খরচ করতে চায় ডিপি ওয়ার্ল্ড। বিশ্বের ৪০টি দেশে বন্দর নির্মাণে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব নিয়ে এখন মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে চলছে আলোচনা। ডিপি ওয়ার্ল্ড ও মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতা করছে পিপিপি কার্যালয়।

ধারণাপত্রে ডিপি ওয়ার্ল্ড থেকে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে এখন পণ্য খালাসে যে সময় লাগে, বন্দর ডিজিটাইজেশন হয়ে গেলে পণ্য খালাসের সময় অনেকাংশে কমে আসবে। পণ্য খালাসে যখন সময় কমে আসবে, তখন স্বাভাবিকভাবে ব্যবসার খরচও কমে আসবে। তখন ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি ঘটবে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য জটের কারণে খালাস হতে অনেক সময় লেগে যায়। এতে পণ্যের খরচও বেড়ে যায়। যার খেসারত দিতে হয় ভোক্তাদের। ব্যবসায় খরচ কমে এলেও তখন ভোক্তার উপরও চাপ কমে আসবে।

পিপিপি কার্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলকামা সিদ্দিকী বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের কম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের একটি বিনিয়োগ প্রস্তাব আমাদের কাছে এসেছে। আমরা তাদের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছি। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে বৈঠকও হয়েছে। আলোচনা চলছে’।

পিপিপি কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ছয়টি প্রকল্পে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে ডিপি ওয়ার্ল্ড। প্রকল্পগুলো হলো পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়ন, কমলাপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো বা আইসিডি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনা, সক্ষমতা বাড়ানো ও রক্ষণাবেক্ষণ। বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে সাড়া মিললে স্বল্পসময়ে এই তিনটি প্রকল্পের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া গাজীপুরের ধীরাশ্রমে আলাদা একটি আইসিডি নির্মাণ, পরিচালনা ও সংরক্ষণ, সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে রেল পরিচালনা কম্পানি এবং চট্টগ্রামের বে-কনটেইনার টার্মিনাল এই তিনটি প্রকল্পে সরকারের সম্মতি থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তবায়ন করতে চায় ডিপি ওয়ার্ল্ড। বিশ্বজুড়ে বন্দর নির্মাণে সুনাম অর্জন করেছে সংস্থাটি। তাই বাংলাদেশেও বন্দর নির্মাণ ও উন্নয়নে আগ্রহ বেশি সংস্থাটির। এই ছয়টি প্রকল্পই পিপিপি মডেলে বাস্তবায়ন হবে।

ডিপি ওয়ার্ল্ড বলছে, বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশ এখন যে অবস্থানে রয়েছে, ছয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ খুব কম সময়ের মধ্যে তালিকায় ১০০-এর নিচে চলে আসবে।

পিপিপি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার ও দুবাইয়ের পক্ষে ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। সেই সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করেই বিনিয়োগ প্রস্তাবটি পাঠিয়েছে ডিপি ওয়ার্ল্ড। সংস্থাটির প্রস্তাব নিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টালে উভয় পক্ষের সমন্বয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ডিপি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশে ১০০ কোটি ডলার কোথায় এবং কিভাবে খরচ করতে চায় তার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এখন ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবনা নিয়ে বৈঠক করছে, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে।

প্রতিবছর বাংলাদেশ যে পণ্য আমদানি করে, তার ৯০ শতাংশ আসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিনই পণ্য জট লেগে থাকে। এই পণ্য জট কমিয়ে আনতে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা পিপিপি ভিত্তিতে করতে চায় ডিপি ওয়ার্ল্ড। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণও করতে চায় তারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা