kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

উচ্চ আয়ের দেশে যেতে ‘রূপকল্প ২০৪১’

অনুমোদনের জন্য এনইসিতে উঠছে আজ

আরিফুর রহমান   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উচ্চ আয়ের দেশে যেতে ‘রূপকল্প ২০৪১’

প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১১-২০২১) বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছিল বাংলাদেশ। জাতিসংঘ ঘোষিত স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন হয়েছিল প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনার আওতায়। আসছে জুনে শেষ হচ্ছে প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মেয়াদ। প্রথমটার সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে এবার আরো বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী সরকার। দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-৪১) বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি উচ্চ আয়ের দেশে নিয়ে যেতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। সরকারের নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি দেশ। বাংলাদেশ হবে একটি উন্নয়নশীল দেশ। ওই সময়ে দেশের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাবে। দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনাকে তাই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে উচ্চ আয়ের দেশে যাওয়ার পথনকশা হিসেবে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-২০৪১) চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় উঠছে।

জানতে চাইলে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনাটি প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, এটি আমাদের দ্বিতীয় স্বপ্ন দলিল। যেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মূল্যবোধের ওপর। দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা হলো আমাদের উচ্চ আয়ে যাওয়ার পথনকশা। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করা হবে এই প্রেক্ষিত পরিকল্পনার আলোকে। সে জন্য এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০৪১ সালে বাংলাদেশ কোথায় থাকবে, তার একটি ধারণা দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনায়। সেখানে বলা হয়েছে, ওই সময় বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত দেশ, যেখানে বর্তমান মূল্যে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি, যা হবে ডিজিটাল বিশ্বের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। ওই সময় দারিদ্র্য হবে সুদূর অতীতের কোনো বিষয়। কোনো দীর্ঘ অভিযাত্রায় প্রথম কাজ হলো একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সেই সঙ্গে প্রয়োজন এর অগ্রধারাকে অবাধ করতে দূরদর্শী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ। এ জন্যই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এর মধ্যে একটি পথচিত্র অঙ্কন জরুরি হয়ে পড়ে।

প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এর মূল লক্ষ্য হলো অংশগ্রহণমূলক সমৃদ্ধি, যা শাসনব্যবস্থার কার্যকর প্রতিষ্ঠানাদি দ্বারা পরিচালিত হবে। যেখানে কার্যকর বিচারব্যবস্থা, গণমুখী জনপ্রশাসন, দক্ষ ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। রূপকল্প ২০৪১-এর দ্বিতীয় ভিত্তি গণতন্ত্রায়ন। বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজন একটি পুরোপুরি বহুত্ববাদী গণতন্ত্র। এর লক্ষ্যমাত্রা এমন একটি বহুত্ববাদী গণতন্ত্র যেখানে সকল নীতি ও কৌশলে প্রতিফলিত হবে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা (মানবাধিকার, তথ্য অধিকার)। বিকেন্দ্রীকরণ হলো এর তৃতীয় স্তম্ভ। তৃণমূল পর্যায়ে প্রশাসনিক, আর্থিক (রাজস্বসহ) ও রাজনৈতিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকৃত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং ২০৪১-এর মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন কঠিন হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বিনির্মাণ হলো চতুর্থ স্তম্ভ। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য হলো রূপান্তরশীল অর্থনীতির সঙ্গে এদের সংগতি বিধান এবং যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে কৌশলগত সম্পর্ক, সম্পদ উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন পদ্ধতি।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এর আওতায় সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় এই সুষ্ঠু ধারা বজায় রাখার পথনকশা দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে যেসব নীতি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে পরিণত করার জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ। এ জন্য প্রয়োজন হবে অতিরিক্ত তহবিল, যা দরিদ্রজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণসহ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও মানসম্মত শিক্ষার মতো সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী নিশ্চিত করবে। উচ্চ আয় দেশের জন্য টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আইসিটি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা লালনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য একটি উদ্ভাবনমূলক অর্থনীতি সৃজন করা হবে। অব্যাহত দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো বিনির্মাণ একটি উচ্চ আয় অর্থনীতিতে নগর পরিবর্তনশীলতার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে বলে পরিকল্পনায় বলা হয়েছে। ২০ বছর একটি অতি উন্নত বিশ্ব ব্যবসায় প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়ে টিকে থাকতে হবে প্রধানত তার উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন রপ্তানি খাত নিয়ে। ২০৪১-এর মধ্যে নিরঙ্কুশ দারিদ্র্য সর্বাংশে দূরীকরণসহ উচ্চ আয়ের মর্যাদা অর্জনের জন্য মূল প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য নিরসন সংশ্লিষ্ট অভীষ্ট সামনে রেখে মানব উন্নয়নের জন্য প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এর কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা