kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

সাধারণ ব্যাংক ঝুঁকছে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে

জিয়াদুল ইসলাম   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাধারণ ব্যাংক ঝুঁকছে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে

ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রতি দেশের মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। মানুষের এই আগ্রহকে পুঁজি করে প্রচলিত ধারার (কনভেনশনাল) ব্যাংকগুলোও ইসলামী ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকছে। এ তালিকায় বেসরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারি খাতের ব্যাংকগুলো রয়েছে। কেউ নতুন শাখা ও উইন্ডো খুলে আবার কেউ পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তর হতে চাইছে। সম্প্রতি দুটি ব্যাংক প্রচলিত ব্যাংক থেকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরের অনুমোদনও পেয়েছে। আরো কিছু ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিয়ে রূপান্তরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের বেশির ভাগ মানুষ ধর্মভীরু। তারা সুদভিত্তিক কারবারের পরিবর্তে শরিয়াহভিত্তিক কারবারে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কারণ ইসলামী ব্যাংকগুলো মুদারাবা পদ্ধতিতে আমানত সংগ্রহ করে। আমানতের এই অর্থ বিভিন্ন শরিয়াহ অনুমোদিত পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে থাকে। আবার এ থেকে অর্জিত মুনাফা আমানতগ্রহীতা ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। ফলে এ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকিয়ে ঝুঁকি কম, সুযোগ-সুবিধাও বেশি। তাই প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোও ইসলামী ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকছে।

জানা যায়, বর্তমানে প্রচলিত ধারার একটি ব্যাংক ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৮৫ টাকা ঋণ দিতে পারে। ইসলামী ব্যাংকগুলো সেখানে ৯০ টাকা দিতে পারে। অথচ প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ১৩ শতাংশ এসএলআর রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য তা সাড়ে ৫ শতাংশ। ইসলামী ব্যাংকগুলো যেকোনো সময় আমানতে মুনাফার হার পরিবর্তন করতে পারলেও প্রচলিত ধারার ব্যাংক তা পারে না। এতে প্রচলিত ধারার ব্যাংকের তুলনায় ইসলামী ব্যাংকের ভালো মুনাফা করার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে অনেক ব্যাংক হয়তো ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে দিন দিন ইসলামী ব্যাংকিংয়ের পরিধিও বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু ফরাহ মো. নাছের কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোও পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহ মেনে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণসহ সব কিছু আলাদাভাবে হিসাব করছে তারা। আইটি ডেভেলপমেন্ট হওয়ায় এটা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে আমরা শাখাগুলোতে ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো খোলার অনুমতি দিই। শাখার ভেতরেই আলাদা ডেস্ক খুলে এই সেবা দেয় ব্যাংকগুলো। তার পরে আসল শাখা খোলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি। আর শাখা ও উইন্ডোর তদারকিতে প্রধান কার্যালয়ে আলাদা বিভাগ বা ইউনিট চালু করেছে ব্যাংকগুলো।’ 

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরের চেষ্টা চালিয়ে আসছে কয়েকটি ব্যাংক। সম্প্রতি এ তালিকায় যুক্ত হয় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। এতে সব মিলে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াল ১০টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে সব ব্যাংক মিলে ব্যাংকের শাখা রয়েছে ১০ হাজার ৪০৬টি। নতুন করে দুটি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিয়ে রূপান্তরিত হওয়ায় এখন পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকের শাখা দাঁড়াল এক হাজার ৪৩৫টি। এর মধ্যে শহরের শাখার সংখ্যা ৮৬৬টি। আর গ্রামীণ শাখা ৫৬৯টি। এ ছাড়া বর্তমানে প্রচলিত ধারার আটটি ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা রয়েছে ২১টি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা