kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম জানতে কমিটি হচ্ছে

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করতে কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

চিঠি পাঠানোর কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, অভিজ্ঞ ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হবে। তবে কমিটিতে কাদের রাখা হবে সেটি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে, যাতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো ঝামেলা না হয়। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। 

গত ২০ বছর ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা তদন্তে কমিশন গঠন ও শতকরা ২ ভাগ ডাউন পেমেন্টসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল বিষয় জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৩ নভেম্বর ৯ সদস্যের কমিটি গঠনের ওই রায় দেন আদালত। ওই কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন আদালত।

ওই রায় অনুযায়ী, এসংক্রান্ত রায়ের কপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে ওই কমিটি গঠন করতে হবে। জানা গেছে, ২১ জানুয়ারি ওই রায়ের কপি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পৌঁছায়। সে অনুযায়ী, কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে সব সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের গত ২০ বছরের ঋণ অনুমোদন ও আদায়, পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা, নিয়োগ প্রক্রিয়া, বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জবাবদিহি ইত্যাদির ক্ষেত্রে বিরাজমান দুর্বলতা চিহ্নিত করতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ব্যাংকিংয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞদের নিয়ে এবং প্রয়োজনে সাবেক ব্যাংকার ও স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করে সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে রায় প্রাপ্তির ৯০ দিনের মধ্যে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আদালতের নির্দেশনা থাকায় ওই কমিটিতে সদস্য মনোনয়ন করা আবশ্যক। এখন আদালতের রায় পরিপালনে আপনাদের মতামত একান্ত আবশ্যক। আপনাদের মতামত প্রাপ্তির পর বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। 

গত বছরের ৩ নভেম্বরের রায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতিমালার আওতায় বকেয়ার ২ শতাংশ জমা (ডাউন পেমেন্ট) দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃ তফসিল করার সুবিধা নেওয়ার জন্য আবেদন করার সময়সীমা আরো ৯০ দিন বাড়ানোরও আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া এ নীতিমালার আওতায় ঋণ পুনঃ তফসিল সুবিধা গ্রহণকারীদের পরবর্তীতে ঋণ গ্রহণ করতে হলে ২০১২ সালের জারি করা (ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-বিআরপিডি) প্রজ্ঞাপনের ৬(এ) ধারা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে এ বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়েছে, ৩ নভেম্বর আলোচ্য রিট পিটিশনের মৌখিক রায় প্রদান করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিযুক্ত আইনজীবী থেকে রায়ের সার্টিফিকেট কপি প্রাপ্তির পর একই বছরের ১৭ নভেম্বর ৯০ দিন সময় বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া আলোচ্য রিট পিটিশনের লিখিত রায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সর্বশেষ জারি করা সার্কুলার সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে আদালতের এই নির্দেশনা এরই মধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। 

এ ছাড়া ওই দিনের রায়ে সব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে তাদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার নিয়োগ, প্রমোশন ও অপসারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয় চিঠিতে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা