kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

কক্সবাজারে লবণ চাষিদের দুর্দিন

উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বিক্রি

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজারে লবণ চাষিদের দুর্দিন

দেশের প্রধান লবণ উৎপাদন কেন্দ্র কক্সবাজারের মাঠে হঠাৎ লবণের দাম পড়ে গেছে। কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপের মাঠপর্যায়ে প্রতি মণ উৎপাদিত লবণ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫০ টাকা। সে হিসেবে প্রতি কেজি লবণের দাম তিন টাকা ৭৫ পয়সা। অথচ প্রতি কেজি লবণ উৎপাদনে চাষিদের খরচ হয় ছয় টাকা ২৫ পয়সা। গেল সপ্তাহেও মণপ্রতি লবণের দাম ছিল ১৮০ টাকা। অথচ এখন লবণের দাম এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

লবণের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় কক্সবাজার উপকূলের ৬০ হাজার লবণ চাষির ঘরে রীতিমতো আহাজারি শুরু হয়েছে। এক মৌসুমের জন্য একরপ্রতি ৭৫ হাজার টাকায় বর্গা জমি নিয়ে এবার সেই টাকাও তুলতে পারবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। গত বছর লবণের বাম্পার উৎপাদন হওয়ায় এবার অনেক বেশি চাষি লবণ উৎপাদনে নামেন। কিন্তু মৌসুমের মধ্যভাগে এসে লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে পড়ে যাওয়ায় হতাশ চাষিরা মাঠ থেকে উঠে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘উপকূলের লবণ চাষিরা উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মানববন্ধনসহ নানাভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আমি লবণ পরিস্থিতির বিস্তারিত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। সেই সঙ্গে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির ব্যাপারে আশ্বস্ত করে চাষিদের যথারীতি উৎপাদনে মনোযোগী হতে পরামর্শও দিয়ে যাচ্ছি।’

বাংলাদেশ লবণ চাষি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মোস্তফা কামাল চৌধুরীর অভিযোগ, সিন্ডিকেট করে বন্ডেড ওয়্যার হাউসের আওতায় ব্যাক টু ব্যাক এলসি এবং ট্যাক্স ফাঁকির মাধ্যমে কেমিক্যাল আইটেমের আড়ালে সোডিয়াম সালফেটের নামে সোডিয়াম ক্লোরাইড (খাবার লবণ) আমদানি করা হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় লবণের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। ফলে দেশীয় লবণ চাষিরা ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব।

মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, ‘ইতিমধ্যে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কক্সবাজারের লবণ চাষিদের আহাজারির কথা জানানো হয়েছে।’

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, সম্প্রতি স্থানীয় এমপি আশেক উল্লাহ রফিকসহ আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লবণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরি। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি, কিছু অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীর কারণেই দেশীয় লবণশিল্পে অরাজকতা দেখা দিয়েছে।’

বিসিক কক্সবাজারের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. হাফিজুর রহমান জানান, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত লবণ উৎপাদিত হয়েছে। অথচ গেল বছর এ সময়ে উৎপাদন হয়েছিল তিন লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন লবণ। গেল বছর ৬০ হাজার একর জমিতে লবণের চাষ হলেও এবার চাষের জমি অনেক পরিমাণে কমে এসেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা