kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

করোনার অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা : বাণিজ্যসচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা : বাণিজ্যসচিব

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও কিছু কিছু পণ্যে করোনাভাইরাসের কারণ দেখিয়ে বাজারে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। গতকাল ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার থেকে বাজার অভিযান শুরু করার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যসচিব ড. জাফর উদ্দিন।

গতকাল মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি আরো বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এর পরও কতিপয় ব্যবসায়ী চীনের করোনাভাইরাসের সুর তুলে আদা-রসুন এবং কেমিক্যালে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া বাজার ব্যবস্থা নজরদারি করতে মন্ত্রণালয়ের ২৮ দল সারা দেশে কাজ করছে।

এর আগে করোনাভাইরাসের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা নিয়ে কোন খাতে কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে এর প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন বাণিজ্যসচিব। তিনি বলেন, সম্প্রতি করোনাভাইরাসে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কী পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়বে এই নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি কমিটি করে দেয়। গতকাল এই কমিটির প্রাথমিক একটি প্রতিবেদন দেয় এফবিসিসিআই, নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএ। তবে এখনো দেশের পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ কোনো প্রতিবেদন দেয়নি।

কোথায় কোথায় সম্ভাব্য ক্ষতির প্রভাব পড়তে পারে উল্লেখ করে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘আমরা এই সব তথ্য তিন ভাগে ভাগ করেছি এর মধ্যে আমদানি, রপ্তানি এবং আমদানিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং শিল্পের কাঁচামাল। রপ্তানির প্রধান খাত হলো তৈরি পোশাক ও প্লাস্টিক। তবে নিট পোশাকের কাঁচামালে তেমন কোনো প্রভাব না পড়লেও খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়াচ্ছে ব্যবসায়ীরা’।

চীন থেকে আমদানি-রপ্তানি শুরু হলে বন্দর ব্যবস্থায় চাপ বাড়বে। এ সময় পণ্য খালাসে অগ্রাধিকার সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করে এফবিসিসিআই। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল দ্রুত খালাসে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে প্রভাব পড়বে না উল্লেখ করে বাণিজ্যসচিব বলেন, ব্যবসায়ীরা রসুনে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে তাদের আশ্বস্ত করেছেন। সরবরাহ লাইনে পর্যাপ্ত দেশীয় পণ্য, ভারত এবং মিয়ানমারের রসুন আছে। দেশি আদারও পর্যাপ্ত মজুদ আছে। এ ছাড়া এপ্রিলে দেশের নতুন আদা আসছে। ফলে রমজানে আদা-রসুনে কোনো প্রভাব পড়বে না।

এ ছাড়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রসুন বর্তমান সময়ে তিন গুণ বেশি আমদানি হয়েছে।

নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কালের কণ্ঠকে বলেন, চায়না খুলছে। শিগগিরই আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর এবং কাস্টমস নানা ধরনের অজুহাত তুলে হয়রানি করবে। তাই বন্দর এবং কাস্টমসে যেন নিত্যপণ্য আমদানি ও রপ্তানিতে কোনো রকম হয়রানির শিকার হতে না হয় এ জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা