kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

রূপরেখা নিয়ে সভা ২৩ ফেব্রুয়ারি

ডেল্টা তহবিল আসছে

আরিফুর রহমান   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ডেল্টা তহবিল আসছে

শতবর্ষী ‘ডেল্টা প্ল্যান’ বাস্তবায়নে আলাদা একটি তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুমোদিত বদ্বীপ পরিকল্পনার আওতায় সামনের দিনগুলোতে যেসব প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, সেসব প্রকল্প ও কর্মসূচিতে টাকার জোগান দিতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য তহবিল গঠন করা হচ্ছে। ‘ডেল্টা ফান্ড’ নিয়ে একটি রূপরেখা তৈরি করছে জিইডি, যে খসড়া রূপরেখা নিয়ে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি সভা ডাকা হয়েছে।

তহবিলের আকার কত হবে তা চূড়ান্ত হয়নি। আলাদা তহবিল ছাড়া ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন কঠিন বলে মত কর্মকর্তাদের। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডেল্টা তহবিল কিভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন ও অংশীজনের মধ্যে আলোচনা চলছে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর জলবায়ু তহবিল (বিসিসিটি) গঠন করেছিল। ওই তহবিল পরিচালনার জন্য একটি আইন করা হয়েছিল। জলবায়ু তহবিলটি পরিচালিত হয় সরকারের আলাদা একটি আইনের মাধ্যমে।

সম্প্রতি তারল্য সংকট কাটাতে পুঁজিবাজারের জন্য প্রতিটি ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকা করে তহবিল গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত দশ বছরে সরকার একাধিক তহবিল গঠন করেছে। তবে ‘ডেল্টা তহবিল’ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে, নাকি আইনি কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে অংশীজনের মতামত নিচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এডিপিতে যে হারে বাজেট দেওয়া হচ্ছে, তাতে শতবর্ষী ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সে জন্য আলাদা একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তহবিলটি কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’

সরকারের ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ১০টি মন্ত্রণালয় পানি ব্যবস্থাপনা বা বদ্বীপ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে। সেগুলো হলো কৃষি মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত দশটি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে ডেল্টা তহবিলের টাকায়, যেটি এখন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত হয়।

কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়গুলোতে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কত টাকা খরচ হয়, তা বের করা কঠিন। আলাদা একটি তহবিল থাকলে জানা যায় প্রতিবছর বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার বাজেট থেকে কত টাকা খরচ করছে। পরিকল্পনা কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় (এনইসি) ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ অনুমোদন দেয় সরকার। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ প্রথম ধাপে বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়বে দেড় শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম শতবর্ষী কোনো পরিকল্পনা।

তথ্য বলছে, বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবছর মোট দেশজ আয়ের ২.৫ শতাংশ পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে। মোট দেশজ আয়ের আড়াই শতাংশের মধ্যে বেসরকারি খাত থেকে আসবে ০.৫ শতাংশ আর ২ শতাংশ জোগান দেওয়া হবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। কিন্তু কমিশনের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বর্তমানে পানি ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে মোট দেশজ আয়ের মাত্র ০.৮ শতাংশ জোগান দেওয়া হয়। পানি ব্যবস্থাপনা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আলাদা তহবিলের বিকল্প নেই বলেও মত কমিশনের। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বদ্বীপ পরিকল্পনাসংক্রান্ত প্রকল্পগুলো অনুমোদনের প্রক্রিয়া করবে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। তহবিলের টাকায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

কমিশন বলছে, বদ্বীপ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় এখন পর্যন্ত ৮০টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫টি প্রকল্প ভৌত অবকাঠামোসংক্রান্ত। বাকি ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়নে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে তিন হাজার ৭০০ কোটি ডলার। বদ্বীপ পরিকল্পনায় ঝুঁকি বিবেচনায় সারা দেশে ছয়টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এসব হটস্পটে ৩৩ ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তহবিলের টাকা কোথায় খরচ হবে তার ধারণাও রয়েছে খসড়া রূপরেখায়। বন্যা থেকে রক্ষা, নদীভাঙন, নদীশাসন, নদী ব্যবস্থাপনা এবং নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ খাতে খরচ হবে। এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন খাতেও টাকা খরচ হবে। তহবিল থেকে টাকা ছাড়ের ক্ষমতা কি পরিকল্পনা কমিশনের আওতায় থাকবে, নাকি অন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে, তা নিয়ে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি বৈঠকে আলোচনা হবে। এরপর বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত দশটি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা