kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

৭ দিন ২৪ ঘণ্টাই দেশে আসবে রেমিট্যান্স

ব্লক চেইনের আদলে নতুন প্রযুক্তির অনুমোদন
মালয়েশিয়ার প্রবাসীরা এই সুবিধা পাবেন

জিয়াদুল ইসলাম   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



৭ দিন ২৪ ঘণ্টাই দেশে আসবে রেমিট্যান্স

পরিবার ও প্রিয়জনের কাছে টাকা পাঠাতে এখন আর কোনো ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না প্রবাসীদের। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রেরণ সহজ করতে ব্লক চেইন টেকনোলজির আদলে নতুন একটি প্রযুক্তি ব্যবহারে বিদেশি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংককে অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার টেকনোলজি (ডিএলটি) নামের ওই পদ্ধতিতে মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স আনতে দেশে ড্রয়িং ব্যবস্থা স্থাপন করবে ব্যাংকটি।

সম্প্রতি মালয়েশিয়া ভ্যালিউ এসডিএন, বিএইচডির সঙ্গে ড্রয়িং ব্যবস্থা স্থাপন এবং ড্রয়িং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংককে ডলার ও টাকায় হিসাব খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ব্যবস্থায় মোবাইল ওয়ালেট টু মোবাইল ওয়ালেট সাত দিন ২৪ ঘণ্টা ঘরে বসেই রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন মালয়েশিয়ার প্রবাসীরা। প্রথম পর্যায়ে মালয়েশিয়ায় এই টেকনোলজি শুরু করার পর অন্য দেশ থেকেও একই টেকনোলজি দিয়ে রেমিট্যান্স আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়া গ্রাহক থেকে গ্রাহক সরাসরি লেনদেনের একটি মাধ্যম হচ্ছে ব্লক চেইন প্রযুক্তি। এখানে তৃতীয় পক্ষ বলতে বিদ্যমান লেনদেনে সাহায্যকারী ও অনুমতি প্রদানকারী মাধ্যমগুলোকে বোঝানো হয়। ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার টেকনোলজির বেলায়ও একই সংজ্ঞা প্রযোজ্য। কারণ এখানেও তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়া সরাসরি গ্রাহক থেকে গ্রাহক লেনদেন সম্পন্ন হবে। কিন্তু প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে তৃতীয় পক্ষ তথা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্লক চেইন টেকনোলজির আদলেই ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার টেকনোলজির (ডিএলটি) কাঠামো দেওয়া হয়েছে। এটা আধুনিক এবং সবচেয়ে সিকিউরড টেকনোলজি। এই টেকনোলজির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় ভ্যালুউ নামে যে মোবাইল ওয়ালেট আছে, ওই ওয়ালেটের মাধ্যমে প্রেরিত রেমিট্যান্স স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আসবে এবং সেখান থেকে বিকাশ ওয়ালেটের মাধ্যমে সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছাবে।

অর্থাৎ ভ্যালুউ মালয়েশিয়ার মোবাইল ওয়ালেট নামে একটা অ্যাপস আছে। মালয়েশিয়ার কর্মরত প্রবাসীরা ওই অ্যাপস ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পরিমাণ রেমিট্যান্স তাঁদের পরিবার পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে পাঠাতে পারবেন। আর বিকাশের ওয়ালেট অ্যাপস থাকলেই ওই টাকা রিসিভ করতে পারবেন সুবিধাভোগীরা। এই লেনদেন হবে তাৎক্ষণিক, সাত দিন ২৪ ঘণ্টা। এর জন্য মালয়েশিয়ার প্রবাসীদের সুবিধাজনক সময়ে ওই ওয়ালেটে টাকা ক্যাশইন করে রাখতে হবে। সেখান থেকে ওই টাকা রাত-দিন যেকোনো সময় বিকাশ ওয়ালেট নম্বরে পাঠাতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের পক্ষে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসে সশরীরে গিয়ে টাকা পাঠানো সময়সাপেক্ষ। আবার তাঁরা যেখানে কাজ করেন, সেখান থেকে ব্যাংকের দূরত্বটাও অনেক বেশি। এতে তাঁদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। সাপ্তাহিক ছুটিতে তাঁর সময় হলেও ওই দিন আবার ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউস বন্ধ থাকে। এই জায়গাতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওয়ালেট টু ওয়ালেট টাকা পাঠানো তাৎক্ষণিক সমাধান। এটি অধিক নিরাপদ। তা ছাড়া প্রচলিত ব্যবস্থার চেয়ে এখানে টাকা পাঠানোর খরচও কম হবে। তবে চার্জ কী হবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

নতুন এ প্রযুক্তি ব্যবহারে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংককে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রয়িং ব্যবস্থাটি অনুমোদনের তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে কার্যকর করতে হবে, অন্যথায় এ অনুমোদন বাতিল বলে গণ্য হবে। ভ্যালুউ এসডিএন, বিএইডি মালয়েশিয়া কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলাদির যথার্থতা ব্যাংক নিজ দায়িত্বে নিশ্চিত করবে। ‘মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে কার্যরত কোনো মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায়’ এ জাতীয় পোস্টার এবং ব্যানার ভ্যালুউয়ের কোনো আউটলেট বা অন্য কোনো মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে না। অনলাইনভিত্তিক ভার্চুয়াল মুদ্রা (ক্রিপ্টো কারেন্সি) যেমন-বিটকয়েন, ইথারিয়াম, রিপল, লাইটকয়েন ইত্যাদির লেনদেন এবং ডাটা মাইনিং জাতীয় কোনো ধরনের কার্যক্রম করা যাবে না। ভ্যালু এসডিএন মালয়েশিয়া  থেকে আহরিত রেমিট্যান্স সাত দিন ২৪ ঘণ্টা গ্রাহককে প্রদান করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এবং ভ্যালুউ মালয়েশিয়া ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মধ্যকার চুক্তিতে এমন কোনো শর্ত দেওয়া যাবে না, যা বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির পথে বাধা হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নে ‘রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধি ও প্রবাসীদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি’ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধিতে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বৈধ চ্যানেলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ সাত দিনই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বিকল্প সার্ভিস ডেলিভারি চ্যানেল যেমন মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস), এজেন্ট ব্যাংকিং ইত্যাদি প্রসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশ থেকে সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা রেমিট্যান্স আনায়নে নতুন এ প্রযুক্তির অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা