kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

একনেকে অনুমোদন

মোংলা বন্দরের সক্ষমতায় ৬০১৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোংলা বন্দরের সক্ষমতায় ৬০১৫ কোটি টাকা

চট্টগ্রামের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে একটি মেগাপ্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ছয় হাজার ১৫ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে ভারতের তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) থেকে বড় একটি অংশ পাওয়া যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এসংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘মোংলা বন্দরটি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর মালামাল পরিবহনের প্রস্তাব রয়েছে। ইতিমধ্যে নেপাল ও ভারতের প্রতিনিধিদল মোংলা বন্দর পরিদর্শন করে গেছে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পের আওতায় বন্দরের ১ ও ২ নম্বর জেটিতে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। সব সুবিধাসহ কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া থাকবে সার্ভিস ভেসেল জেটি, শেড, কার্যালয়, এমপিএ টাওয়ার, পোর্ট রেসিডেনশিয়াল কমপ্লেক্স।

এদিকে চট্টগ্রামের শিকলবাহা থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলার শিকলবাহা থেকে আনোয়ারা উপজেলাসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অধিকতর উন্নত করতে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৪০৭ কোটি টাকা; যার পুরোটাই জোগান দেওয়া হবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে চার লেন সড়কটির কাজ শেষ করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

শরীয়তপুর জেলার সঙ্গে ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা (পদ্মা ব্রিজ অ্যাপ্রোচ) সড়ক উন্নয়নেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে একনেক সভায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে এক হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। আগামী ২০২২ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে।

এদিকে গতকালের একনেক সভায় রাজশাহীর উন্নয়নে দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একটি হলো রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, যেটি বাস্তবায়নে খরচ হবে দুই হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। অন্যটি হলো রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বাম তীরের স্থাপনাগুলো নদীভাঙন থেকে রক্ষা প্রকল্প, যেটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৭২২ কোটি টাকা। দুটি বড় প্রকল্প পাস হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। পৃথকভাবে তাঁরা নিজেদের ফেসবুকেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পোস্ট করেন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) সূত্র মতে, তিলোত্তমা রাজশাহী নগরী গড়তে কাজ হবে নগরীর ভেতর দিয়ে যাওয়া তিনটি মহাসড়ক প্রশস্ত করা, লেভেলক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে ছয়টি উড়াল সেতু নির্মাণ, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ১২টি ওভারব্রিজ নির্মাণ, এক হাজার ৮০০টি গলির রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণ এবং তিনটি বিনোদনকেন্দ্রের উন্নয়ন।

এ প্রকল্প নিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘রাজশাহী নগরীর সার্বিক উন্নয়ন করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এই শহরকে একটি উন্নত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে এটিকে ঢেলে সাজাতে চাই। এর জন্য যা যা করার দরকার তাই করা হবে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একনেকে ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা খরচে ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা