kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

চাঙ্গা পুঁজিবাজার, টানা ৫ দিন ঊর্ধ্বমুখী

মূলধন ফিরল ২১,৪১৭ কোটি

রফিকুল ইসলাম   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মূলধন ফিরল ২১,৪১৭ কোটি

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্যাংকের বিশেষ তহবিল গঠনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে পুঁজিবাজার। গত সপ্তাহে এই তহবিল গঠনের পর শেয়ার কিনতে সক্রিয় হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। আর এই সক্রিয়তা বাড়ায় পুঁজিবাজারের লেনদেন ও মূল্যসূচকে বড় উত্থান হয়েছে।

তহবিল গঠনের পর একটানা পাঁচ কার্যদিবস পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী। এতে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক বেড়েছে ৩৮২ পয়েন্ট। আর বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকা।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের মন্দাবস্থার কারণে আস্থার সংকটে পড়েন বিনিয়োগকারীরা। আস্থাহীনতায় অব্যাহতভাবে শেয়ার বিক্রি করেন। পুঁজিবাজার তলানিতে নামলেও নিষ্ক্রিয় থাকেন বিনিয়োগকারীরা। তবে অব্যাহত পতনে গত ১৬ জানুয়ারি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর পুঁজিবাজার উন্নয়নে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই নির্দেশনায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বড় সহায়ক হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রত্যেকটি ব্যাংককে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকা করে বিশেষ তহবিল গঠনের অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের নির্দেশিত সীমার বাইরে এই তহবিল ব্যাংক নিজে ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে পারবে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট দূর হচ্ছে। বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। বাজার অনেক তলানিতে নেমেছিল, এখন সেটা ফিরছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও বিশেষ তহবিল বাজার ঊর্ধ্বমুখিতায় বড় ভূমিকা রাখছে। বিনিয়োগকারীকে সচেতনভাবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী। দুই দিন সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে, যাতে প্রতিদিনই সূচকে বড় উত্থান হয়েছে। এই সময়ে ডিএসইর সূচক বেড়েছে ৩৮২ পয়েন্ট। আর বাজার মূলধন বেড়েছে ২১ হাজার ৪১৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর আগের শেয়ার বিক্রির চাপের সময় অব্যাহতভাবে বাজার মূলধন কমছিল, সূচকও কমতে কমতে তলানিতে নামে।

গত রবিবার ও গতকাল সোমবার ডিএসইর লেনদেন প্রায় এক হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি হয়েছে। রবিবার লেনদেন হয়েছিল ৯১৬ কোটি টাকা আর গতকাল লেনদেন হয়েছে ৯৭৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৯৮৪ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারে এমন বড় উত্থানে ভূমিকা রয়েছে ব্যাংক খাতে। এই খাতের শেয়ারের দাম কমতে কমতে তলানিতে নামে। তবে বিশেষ তহবিল গঠনে বিনিয়োগকারীরা এই খাতের শেয়ার কিনতে সক্রিয় হয়েছে। গত রবিবার ব্যাংক খাতের শেয়ারে বড় উল্লম্ফন ঘটে। মন্দাবস্থায় কমতে থাকা ব্যাংকের শেয়ারেও চমক দেখা যায়। গতকাল সোমবার ব্যাংক খাতের শেয়ারে বিক্রির চাপ বাড়লেও চাঙ্গা হয়েছে বীমা খাত। ৮০ শতাংশ বীমা কম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকের বিশেষ তহবিল গঠনে রবিবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০ ব্যাংকের সবটির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি পায়। তবে গতকাল দামে সংশোধন হয়েছে। তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১৪টির শেয়ারের দাম কমেছে। আর ১৪টির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। দুটি ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়েওনি-কমেওনি। আর বীমা খাতের ৪৭টি কম্পানির মধ্যে ৩৮টির বা ৮০ শতাংশ কম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। সাতটি কম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি কম্পানির শেয়ারের দাম।

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৯৭৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছে প্রায় ৩৪ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা আর সূচক বেড়েছিল ১৬৯ পয়েন্ট।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর শেয়ার কেনার চাপ থাকলেও হঠাৎ বিক্রি বাড়লে সূচক নিম্নমুখী হয়। পরবর্তীতে শেয়ার কেনা বাড়লে সূচক বাড়ে। এতে দিনের সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়। দিন শেষে সূচক দাঁড়ায় চার হাজার ৭৬৮ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৫৯৯ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক প্রায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া কৃত কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৯৫টির, কমেছে ১২৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টি কম্পানির শেয়ার।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও লেনদেন উভয়ই বেড়েছে। গতকাল সোমবার লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৫১ লাখ টাকা আর সূচক বেড়েছে ৫৮ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ২৭৩টি কম্পানির মধ্যে ১৫৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ৮৭ কম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১টি কম্পানির শেয়ারের দাম। আগের দিন রবিবার লেনদেন হয়েছিল ৩০ কোটি আট লাখ টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা