kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

আস্থায় ভর করে চাঙ্গা পুঁজিবাজার

এক বছর পর লেনদেন ৯১৬ কোটি টাকা

রফিকুল ইসলাম   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এক বছর পর লেনদেন ৯১৬ কোটি টাকা

আস্থার সংকটে দেদার বিক্রির হিড়িকের পর এবার পুুঁজিবাজারে শেয়ার কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ২০০ কোটি টাকা করে তহবিল গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে আস্থা ফিরছে বিনিয়োগকারীর। পড়তি বাজারে শেয়ার বিক্রি করে ‘নিরাপদ’ অবস্থান নেওয়া বিনিয়োগকারীরা বাজারে ফিরছেন। তহবিল জোগানের সিদ্ধান্তে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও সক্রিয় হয়েছে।

শেয়ার কেনার হিড়িকে মূল্যসূচক ও লেনদেনে ব্যাপক চমক দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক গতকাল রবিবার বেড়েছে ১৬৯ পয়েন্ট বা ৩.৭১ শতাংশ। আর লেনদেন হয়েছে ৯১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে লেনদেন ৯০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মূল্যসূচক বেড়েছে ৩২৫ পয়েন্ট বা ৩.৮৬ শতাংশ।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি পুঁজিবাজারের তারল্য সংকট কাটাতে ও ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ তহবিল গঠন অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিটি ব্যাংক বিনিয়োগসীমার বাইরে ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করে নিজে বিনিয়োগ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে পারবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন আস্থার সংকটে তলানিতে নামে পুঁজিবাজার। বাজার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও তারল্য সংকট কাটাতে ব্যাংকের বিশেষ তহবিল বিনিয়োগকারীর আস্থাকে জাগিয়ে তুলেছে। সাইড লাইনে থাকা নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা বাজারে ফেরায় চাঙ্গা হয়েছে পুঁজিবাজার। দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

উঠতি বাজারে কারসাজির বিষয়ে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়ে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উঠতি বাজারে গুজব কিংবা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কারসাজিগোষ্ঠী ফায়দা লুটতে সক্রিয় হয়। দুর্বল বা জাংক শেয়ারের দাম কৌশলে বাড়িয়ে তোলে। আর সুযোগ বুঝে কারসাজিচক্র শেয়ার ছেড়ে বেরিয়ে গেলে আটকে পড়ে বিনিয়োগকারীরা। সে জন্য জাংক বা দুর্বল শেয়ার নয়, মৌলভিত্তির ভালো কম্পানির শেয়ারে জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করতে হবে। নিজের মূলধনের সুরক্ষা নিজেকেই করতে হবে।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, লেনদেন শুরু হলে শেয়ার কেনার চাপে মূল্যসূচকে বড় উত্থান হয়। বেলা বাড়লে শেয়ার কেনার পরিমাণও বাড়তে থাকে। এতে দিনের সূচকে বড় উত্থান হয়। লেনদেনও সমানতালে বাড়তে থাকে। লেনদেন হওয়া কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২৯৩টির, কমেছে ৪০টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টি কম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর লেনদেন দাঁড়ায় ৯১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। গত বছর ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি লেনদেন হয়েছিল ৯৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। মূল্যসূচক ও লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে শেয়ার হাতবদলের সংখ্যাও। গতকাল শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ ৩২ হাজার ৪৩১টি। এই শেয়ার হাতবদল গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি ডিএসইতে শেয়ার হাতবদল হয়েছিল ৩৭ কোটি ৯২ লাখ ১০ হাজার ৮৪৪টি। বাজার মূলধনের হিসাবে এক দিনে পুঁজিবাজারের বিক্রয়যোগ্য শেয়ারের দাম বেড়েছে আট হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা।

বাজারের বড় উত্থানের বিষয়ে ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও সরকারের সব পক্ষের ইতিবাচক উদ্যোগে বাজারে গতি ফিরেছে। তারল্য সংকট দূর করতে তহবিলের জোগান সময়ের দাবি ছিল। সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়টি আমলে নিয়ে বাজার এগিয়ে নিতে উদ্যোগী হয়েছেন। এটি বিনিয়োগকারীর আস্থা ফেরাতে সহায়ক হয়েছে।’

রাতারাতি বাজারকে না ওঠানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে সূচকের ওঠানামা নিয়মিত ঘটনা। তবে অতিরিক্ত উত্থান বা পতন ভালো নয়। শেয়ার কিনতে সবাই হুমড়ি না খেয়ে সংযত আচরণ করতে হবে। রাতারাতি বাজার উঠলে আবার দ্রুত পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।’

ইনভেন্ট প্রমোশন সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহমেদ সাদেক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তারল্য সংকট কাটাতে তহবিল আস্থা ফেরাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর মধ্যে আস্থার যে সংকট ছিল তা দূরীভূত হতে শুরু করেছে। আস্থা ধরে রাখতে পারলে বাজার গতিশীলতার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। নিষ্ক্রিয় থাকা বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে সক্রিয় হওয়ায় বড় উত্থান হয়েছে। আস্তে আস্তে বাজার বাড়াই ভালো, এটা স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যাবে।

বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, বাজার বাড়তে থাকলে ‘জাংক’ শেয়ারের দাম বাড়ে। বাজারে জোয়ার এলে আবর্জনাও সামনে চলে আসে। বিনিয়োগকারীকে সচেতন হয়ে বিনিয়োগ করতে হবে।

দুর্বল কম্পানির দাপট : দীর্ঘদিনের মন্দাবস্থা কাটিয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে পুঁজিবাজার। শেয়ার কেনার চাপে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পালে হাওয়া লেগেছে। পুঁজিবাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় দুর্বল বা ‘জেড’ তালিকাভুক্ত কম্পানির শেয়ারের পালেও হাওয়া লেগেছে।

বছর শেষে বিনিয়োগকারীকে কোনো লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ‘জেড’ তালিকায় রয়েছে অর্ধশত কম্পানি। তবে আর্থিক অবস্থায় কোনো উন্নতি না থাকলেও গতকাল এই তালিকার ৩১টি কম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ১০টি কম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা