kalerkantho

রবিবার । ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ ফাল্গুন ১৪২৬। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচিত ‘সোনালি ব্যাগ’

পাটের পলিথিনের সুদিন আসছে

বাণিজ্য ডেস্ক   

৩০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাটের পলিথিনের সুদিন আসছে

পরমাণুবিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খান

আবারও সুদিন আসছে বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাটের। দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন তাড়ানোর জন্য সরকার চেষ্টা করলেও তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি এর কার্যকর বিকল্প না থাকায়। এবার সেই বিকল্প উদ্ভাবন করে দেখিয়ে দিয়েছেন পরমাণুবিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খান।

বাংলাদেশের ‘সোনালি ব্যাগ’ নিয়ে ছয় মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করেছে জার্মানির আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে। ‘বাংলাদেশ : প্লাস্টিক ফ্রম জুট’ শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্রটিতে এমন একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। এটি তৈরি করেছেন সাংবাদিক মিখায়েল ওয়েটজেল।

ডয়চে ভেলের ওই প্রামাণ্য চিত্রে বলা হয়, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোবারক আহমদ খানের উদ্ভাবিত পলিথিন ব্যাগের নাম ‘সোনালি ব্যাগ’। পাটের তৈরি সোনালি ব্যাগ দেখতে বাজারের সাধারণ পলিথিন ব্যাগের মতো হলেও এটি আসলে প্লাস্টিক নয়। বরং এটি পাট থেকে তৈরি একটি ব্যাগ, যা অনেক বেশি টেকসই ও মজবুত এবং কয়েক মাসের মধ্যে পচে যায়।

ওই তথ্যচিত্রে মোবারক আহমদ খান নিজের মতামত তুলে ধরে বলেন, এই ব্যাগ পুরোপুরিই পলিথিনির বিকল্প। এটি দিয়ে খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিং হতে পারে, সাধারণ প্যাকেজিং, গার্মেন্টের প্যাকেজিং এবং শপিং ব্যাগসহ যেকোনো প্যাকেজিংয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি এতে বর্ণনা দেন কিভাবে পাটের কাঁচামালের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ক্যামিকেলের মিশ্রণ ঘটিয়ে সোনালি ব্যাগ তৈরি করেন। বলা হয়, মোবারক আহমদ খানের এই প্রকল্প বৈশ্বিক কম্পানিগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেখা যায়, জাপানি একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর এ উদ্ভাবন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ড. মোবারক আহমদ খান একটি সাধারণ পলিথিন পুড়িয়ে দেখিয়ে দেন যে পলিথিন পোড়ালে তা গলে ফোঁটা ফোঁটা পড়ে। কিন্তু সোনালি ব্যাগ পোড়ালে কাগজের মতো পোড়ে। অর্থাৎ এটি পলিথিনির মতো কাজ করলেও কার্যত উপাদান পলিথিন নয় বরং পাটের আঁশ। তিনি জানান, শুকনো পাট বা এর ক্যাডিজ থেকেই মূলত পলিথিনের মতো দেখতে এই ব্যাগ তৈরি করা হয়, যা শতভাগ প্রাকৃতিক।

রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান লতিফ বাওয়ানী জুটমিলে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি বেশ কিছু সোনালি ব্যাগ উৎপাদন করেন। তিনি বলেন, এই ব্যাগের বিশেষত্ব হচ্ছে এটি সহজে পচে যাবে, এমনকি এটি উৎপাদনের সময় যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে তার মধ্যেই এটি পচে যাবে। মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া অংশ সারের কাজ করবে। ফলে এটি পরিবেশদূষণ করে না। অথচ পলিথিনের ব্যাগ বছরের পর বছর টিকে থাকবে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

বাংলাদেশে ২০০২ সালে প্রচলিত পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তাতে বাংলাদেশ থেকে পলিথিন নির্মূল করা যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা