kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

ফার্নিচার খাতে ব্যাংকঋণ তিন হাজার কোটি টাকা

জিয়াদুল ইসলাম   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




ফার্নিচার খাতে ব্যাংকঋণ তিন হাজার কোটি টাকা

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় একটি প্যাভিলিয়নে ফার্নিচার দেখছেন ক্রেতারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাসাবাড়ির অন্যতম অনুষঙ্গ ফার্নিচার। অফিসের সাজসজ্জায়ও এর বিকল্প নেই। মানুষের রুচির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন ব্র্যান্ডের ফার্নিচার বাজারে নিয়ে আসছেন এ খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। নতুন করে ব্যবসা শুরু ও বিদ্যমান ব্যবসা বাড়াতে উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে যেমন ঋণ নিচ্ছেন, তেমনি অফিস ও বাসাবাড়ির প্রয়োজনীয় ফার্নিচার কিনতেও ব্যাংকের দ্বারস্থ হচ্ছেন অনেকেই। ফলে এ খাতে ব্যাংকঋণের চাহিদাও বাড়ছে। তবে ফার্নিচার কিনতে সাধারণ মানুষ না যত ব্যাংকমুখী হচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি হচ্ছেন বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মালিক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত বছরের জুন শেষে এ খাতে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে প্রায় তিন হাজার ৭০ কোটি টাকা। গত এক বছরে এ খাতে ব্যাংকের ঋণ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ২৪ শতাংশ। ঋণ বিতরণে বেসরকারি ব্যাংকগুলো এগিয়ে রয়েছে। আর সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে বেসরকারি খাতের আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অর্থনীতি দিন দিন বড় হচ্ছে। মানুষের আয় বাড়ছে। মানুষের আয় বাড়ার কারণে রুচিরও পরিবর্তন হচ্ছে। এখন মানুষ বাসার ডেকোরেশনের সঙ্গে মিলিয়ে ফার্নিচার কিনছেন। ফলে দেশের ভেতরেও ব্র্যান্ডের ফার্নিচারের চাহিদা বাড়ছে। মানুষের এই চাহিদা বাড়ার কারণেই ফার্নিচারশিল্পে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ বাড়ছে। এই বিনিয়োগের বড় অংশই ব্যাংকঋণের মাধ্যমে মেটানো হচ্ছে। এ ছাড়া অফিস ও বাসাবাড়ি সাজাতেও অনেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নামি-দামি মডেলের ফার্নিচার কিনছেন।

ফার্নিচার খাতের অর্থায়ন ভোক্তাঋণের আওতায় পড়ে। এটার ব্যবহারই হয় ভোগ, ব্যবসা তথা অনুৎপাদনশীল কাজে। তবে ব্যাংকগুলো এ ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী থাকে। কারণ এ খাতের ঋণে সুদহার তুলনামূলক অনেক বেশি। তবে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকায় অর্থনীতিবিদরা ভোক্তাঋণ নিয়ন্ত্রণ রাখার পক্ষে মত দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরের জুন পর্যন্ত দেশের ৪৬টি তফসিলি ব্যাংক ফার্নিচার খাতে ঋণ বিতরণ করেছে প্রায় তিন হাজার ৬৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এক বছর আগে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত যা ছিল দুই হাজার ৪৬৭ কোটি তিন লাখ টাকা। ফলে গত এক বছরে এ খাতে ব্যাংকের ঋণ বেড়েছে প্রায় ৬০৩ কোটি টাকা বা ২৪.৪৩ শতাংশ। এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংক ঋণ দিয়েছে ৪১২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। বেসরকারি ৩৮ ব্যাংক দিয়েছে দুই হাজার ৬২৩ কোটি টাকা। বিদেশি দুই ব্যাংক দিয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা। আর বিশেষায়িত একটি ব্যাংক দিয়েছে প্রায় আট কোটি টাকা। 

ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য মতে, বর্তমানে ফার্নিচারশিল্পের স্থানীয় বাজার ২৫ হাজার কোটি টাকার মতো। আর আন্তর্জাতিক বাজার ৪৮ হাজার কোটি ডলার। দেশের বাজারের মাত্র ৫-১০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক ব্র্যান্ডের দখলে। বাকিগুলো অপ্রাতিষ্ঠানিকের দখলে।

 

দেশের ফার্নিচারশিল্পের আদ্যোপান্ত জানতে আজ পড়ুন ১৬ পৃষ্ঠার নিয়মিত ট্যাবলয়েড ‘লাভ ক্ষতি’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা