kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

এডিপির ৩১ প্রকল্প

২৩টির ধীরগতিতে অসন্তুষ্ট জাইকা

আরিফুর রহমান   

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২৩টির ধীরগতিতে অসন্তুষ্ট জাইকা

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে অকৃত্রিম বন্ধু জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো যেভাবে কচ্ছপ গতিতে চলছে, তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে পাওয়া তথ্য মতে, জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে মেট্রো রেল, মাতারবাড়ীসহ মোট ৩১টি প্রকল্প চলমান। যার মধ্যে ২৩টি প্রকল্পই চলছে কচ্ছপ গতিতে। মাত্র আটটি প্রকল্প সঠিক পথে আছে।

কোনো প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, কোথাও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নিয়ে জটিলতা, কোনো প্রকল্পে স্থান নির্বাচনে জটিলতা, আবার কোনো প্রকল্পে সরকারি এক সংস্থার সঙ্গে আরেক সংস্থার টানাপড়েনের কারণে কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না প্রকল্পগুলো। ফলে আশানুরূপ অর্থ ছাড়ও হচ্ছে না। যেসব প্রকল্পে জটিলতা রয়েছে, দ্রুত সেগুলোর জটিলতা নিরসনের তাগিদ দিয়েছে জাপানভিত্তিক সংস্থাটি। জাইকার অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো নিয়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এক আন্ত মন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রকল্পগুলোর সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সমস্যাগুলো দ্রুত নিরসন করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) মধ্যস্থতার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ইআরডি থেকে পাওয়া তথ্য মতে, উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলমান ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য মেট্রো রেলের (রুট-৬) নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন জাইকা। চলমান মেট্রো রেলের কাজ করতে গিয়ে যাতে করে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডকে (ডিএমটিসিএল) অনুরোধ করেছে জাইকা। বিশেষ করে দুর্ঘটনা এড়াতে পুরো মেট্রো রেল এলাকায় নেট দিয়ে ঢেকে রাখতে ডিএমটিসিএলকে বলা হয়েছে ওই আন্ত মন্ত্রণালয় সভায়। অন্যদিকে গত নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পাওয়া মেট্রো রেলের (এক) আওতায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত রুট নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

একই রুটে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আট লেনের একটি এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ চলছে। দুই প্রকল্পের রুট একই স্থানে হওয়ায় টানাপড়েন তৈরি হয়েছে দুই সংস্থার মধ্যে। কুড়িল থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত মেট্রো রেলের রুটটি মাটির নিচ দিয়ে যাবে না কি ওপর দিয়ে যাবে, তা ঠিক করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্রুত বৈঠক করে জটিলতা নিরসনের তাগিদ দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাইকার প্রধান প্রতিনিধি হিতোইশি হিরাতা।

ওই আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় জাইকার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি তারো কাতসুরি বলেন, জাইকার বিদ্যমান সামাজিক ও পরিবেশগত যে নীতিমালা রয়েছে সেখানে স্পষ্টই বলা আছে, যখন কোনো প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণ করা হবে, সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে জাইকার অর্থায়নে চলমান বেশ কয়েকটি প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত শ্লথগতি। উদাহরণ দিয়ে ওই সভায় তারো কাতসুরি নড়াইলে কালনা সেতুর কথা উল্লেখ করেন। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কালনা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আগামী বছর প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। জাইকা এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। কিন্তু প্রকল্পটি অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সেখানে ক্ষতিপূরণ দিতে দেরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারো কাতসুরি।

ইআরডির জাপান শাখার প্রধান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব শহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাইকার অর্থায়নে চলমান বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে দ্রুত সমস্যা নিরসনের কথা বলেছি। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে’।

ইআরডি থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, যে আটটি প্রকল্প সঠিক পথে আছে সেগুলো হলো, খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প, যমুনা নদীতে সমান্তরাল আরেকটি রেল সেতু প্রকল্প, জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, প্রাকৃতিক গ্যাস দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প, কাঁচপুর, মেঘনা গোমতীতে আলাদা সেতু নির্মাণ প্রকল্প, মেট্রো রেল রুট-৬ প্রকল্প, ঢাকা চট্টগ্রাম পাওয়ার গ্রিড শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং জ্বালানি সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্প।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা