kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মুদ্রা পাচার রোধ ও বাণিজ্য প্রসারেই মনোযোগী কাস্টমস

ফারজানা লাবনী   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুদ্রা পাচার রোধ ও বাণিজ্য প্রসারেই মনোযোগী কাস্টমস

ফাইল ছবি

রাজস্বের চেয়ে মুদ্রা পাচাররোধ ও বাণিজ্য প্রসারেই অধিক গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ কাস্টমস। একসময় রাজস্ব আদায়ের তিন খাতের মধ্যে শুল্ক আদায়ের পরিমাণ সর্বোচ্চ থাকলেও এখন তা কমিয়ে সর্বনিম্ন করা হয়েছে। তিন হাজারেরও বেশি পণ্য থেকে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার বা তুলে দেওয়া হয়েছে। শুল্ক আদায়েরে পরিমাণ কমালেও দেশে ক্ষতিকর পণ্য প্রবেশে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে শুল্ক খাতে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। বন্দরে বন্দরে স্ক্যানিং যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গ্রিন চ্যানেল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা এখনো সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন প্রযুক্তি ব্যবহারে শুল্কসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হলে মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের সুযোগ কমে যাবে। ফলে অর্থপাচারও কমে যাবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মধ্যে নিরাপদ বাণিজ্যের প্রসার বাড়বে।

নিরাপদ বাণিজ্য প্রসারের অংশ হিসেবে অর্থপাচার বন্ধে বাংলাদেশ ২০১২ সালে আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রিভাইজড কিয়োটো কনভেনশনে স্বাক্ষর করে। এরই ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

শুল্কব্যবস্থায় প্রযুক্তি ব্যবহারে আধুনিকতা আনতে বাংলাদেশ ২০১৬ সালে ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটিজ অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে। এসব চুক্তি সামনে রেখে কাস্টমস মডার্নাইজেশন স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৯-এর মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ২০২২ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এসব চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি বাজেটে মিথ্যা তথ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধে প্রত্যেক বন্দরে স্ক্যানিং ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চলতি বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বাণিজ্যে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেক বন্দরে স্ক্যানিং ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার সুযোগ কমে যাবে। ফলে অর্থপাচারও কমবে। দ্রুত এ বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এরই মধ্যে এনবিআর থেকে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করলেও সব বন্দরে স্ক্যানিং বসানো এখনো সম্ভব হয়নি। কবে হবে তার সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও এখনো কেউ জানতে পারেনি।

এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, বাংলাদেশে যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লেগে যায়। এ ধারা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

অর্থনীতির এ বিশ্লেষক উদাহরণ দিয়ে বলেন, বন্ড দুর্নীতি বন্ধে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয় তা এত দিনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। প্রায় দুই বছর সময় বাড়ানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা