kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

জাহাজ নির্মাণ শিল্প

৫০০০ কোটি টাকার তহবিল চায় শিল্প মন্ত্রণালয়

নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশে এখন পর্যন্ত ৪০টির মতো জাহাজ রপ্তানি করেছে বাংলাদেশের শিপইয়ার্ডগুলো

আরিফুর রহমান   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৫০০০ কোটি টাকার তহবিল চায় শিল্প মন্ত্রণালয়

জাহাজ নির্মাণ বাংলাদেশে একটি সম্ভাবনাময় ও ক্রমবিকাশমান শিল্প বিবেচনা করা হলেও এই খাতের উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের নীতি সহায়তার ঘাটতির কথা বলে আসছেন। আর্থিক সক্ষমতার অভাবে বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের জন্য। ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানের মতো দেশগুলো তাদের সরকারের কাছে যেভাবে কম সুদে ঋণ সুবিধা ও রপ্তানিতে প্রণোদনা পাচ্ছে, একই সুবিধা বাংলাদেশেও চালু করতে জাহাজ রপ্তানিকারকরা দাবি করে আসছেন অনেক দিন ধরে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি জাহাজশিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার আলাদা একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। জাহাজ নির্মাণকারী শিপইয়ার্ডগুলোকে ১০ বছর ট্যাক্স হলিডে বা কর অবকাশ সুবিধাও দিতে চায় মন্ত্রণালয়।

‘জাহাজ নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২০’-এ এসব প্রস্তাব করা হয়েছে। নীতিমালার ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চেয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। সব অংশীজনের কাছ থেকে মতামত পাওয়ার পর তা চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাঠানো হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন পণ্যের নকশা তৈরিতে একটি ‘জাহাজ নির্মাণ শিল্প নকশা ইনস্টিটিউট’ করার পরিকল্পনাও করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মীর খায়রুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাহাজ নির্মাণ শিল্প নিয়ে তৈরি করা নীতিমালার ওপর মতামত দিতে আমরা খসড়া নীতিমালাটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সবার মতামত পাওয়ার পর আমরা নীতিমালাটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাঠাব।’ একই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সলিম উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিলের প্রস্তাব করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত এসব প্রস্তাব থাকে কি না তা দেখার বিষয়। জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকঋণের সুদের হার ৪ শতাংশে রাখার প্রস্তাব নিয়েও সংশয় আছে। দেখা যাক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে কী ধরনের মতামত পাওয়া যায়।’

শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশে এখন পর্যন্ত ৪০টির মতো জাহাজ রপ্তানি করেছে বাংলাদেশের শিপইয়ার্ডগুলো। জাহাজ রপ্তানি করে এখন পর্যন্ত ২০ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। সম্ভাবনাময় জাহাজ নির্মাণ শিল্প সরকারের সহযোগিতা পেলে আগামী পাঁচ বছরে জাহাজ রপ্তানির মাধ্যমে বছরে ৪০০ কোটি ডলার আয় সম্ভব বলে মনে করছে শিল্প মন্ত্রণালয়। এতে কর্মসংস্থান হতে পারে এক লাখ মানুষের। এ ছাড়া ভারত ও মিয়ানমারের কাছ থেকে পাওয়া এক লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার নীল সমুদ্র এলাকাকে কাজে লাগানোর জন্য জাহাজ নির্মাণ শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। এসব দিক বিবেচনা করে শুধু জাহাজশিল্পের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার আলাদা একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

‘জাহাজ নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা’ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো জাহাজ নির্মাণে ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ধরা হয়েছে ২৫ বছর। জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্তদের সিআইপি পদমর্যাদা, রপ্তানি ও শিল্প পদক দেওয়ার কথাও বলছে শিল্প মন্ত্রণালয়। শিল্প বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কর্মসূচি ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা অব্যাহত রাখার কথাও বলা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়।

নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, সরকারের চলমান মেগা উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে জাহাজ নির্মাণে সম্পৃক্ত শিপইয়ার্ডগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হবে, সেই টাকা সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া উন্নয়নকাজের ধারা অব্যাহত রাখতে শুল্কহার নির্ধারণ করা হবে ২ শতাংশ।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নীতিমালাটি তৈরি করতে গিয়ে তাঁরা বিভিন্ন দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উদ্যোক্তাদের ওই দেশের সরকার কী কী সুযোগ-সুবিধা দেয়, সেসব বিষয় দেখা হয়েছে। চীনে জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পেয়ে থাকে। এ ছাড়া কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রে ভর্তুকিও পায়। জাহাজ রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনাও দেয় চীন সরকার।

মন্তব্য