kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপ

পুঁজিবাজার উন্নয়নে হচ্ছে পৃথক তহবিল

জিয়াদুল ইসলাম   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পুঁজিবাজার উন্নয়নে হচ্ছে পৃথক তহবিল

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে একের পর এক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর এবার তারল্য সুবিধা বাড়াতে পৃথক তহবিল গঠন করা হচ্ছে। ব্যাংকের নিজস্ব সাবসিডিয়ারি কম্পানির পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস ওই তহবিলের আওতায় সহনীয় সুদে ঋণসুবিধা পাবে। তবে এই ঋণসুবিধা সরাসরি নয়, ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার স্বার্থে আলাদা একটি বিস্তৃত নীতিমালাও করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এক সপ্তাহের মধ্যেই তারল্য বৃদ্ধির এই তহবিল ও নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। তবে তহবিলের আকার কত হবে সেটি এখনো ঠিক করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের পুঁজিবাজার ভালো যাচ্ছে না। এর জন্য ব্যাংকের বিনিয়োগ খরাকে দায়ী করা হচ্ছিল। তাই সীমার মধ্যেই বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে আগ্রহী করতে তাদের হাতে থাকা ট্রেজারি বিল ও বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে রেপোর আওতায় তহবিল নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গত ২২ সেপ্টেম্বর একটি সার্কুলার জারি করা হয়। ওই সার্কুলার অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা ২৫ শতাংশের নিচে রয়েছে তাদের রেপোর মাধ্যমে (ট্রেজারি বিল ও বন্ড বন্ধক রেখে) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ধার নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। তহবিল পেতে আবেদনের সময় দেওয়া হয়েছিল তিন মাস। গত ৩১ ডিসেম্বর এ সময়সীমা শেষ হয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগে ব্যাংকগুলো সাড়া দেয়নি। সার্কুলার জারির পর মাত্র একটি ব্যাংক এ সুযোগ নিয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপে সাড়া না পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ওই তহবিলের মেয়াদ। ট্রেজারি বিল বা বন্ড রেপোর মাধ্যমে নেওয়া ওই তহবিলের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় মাত্র ২৮ দিন এবং তহবিল ব্যবহারের সাফল্যের ওপর তা সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত রাখা যাবে বলে বলা হয়েছিল। আর এই স্বল্প মেয়াদের তহবিল পুঁজিবাজারে খাটিয়ে ব্যাংকগুলো মুনাফা করতে পারবে কি না সেই নিশ্চয়তাও ছিল না। তাই সাড়াও মেলেনি। কিন্তু এবার যে তহবিল গঠন করা হবে, সেটি স্বল্প মেয়াদের জন্য, দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের জন্য নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, স্বল্প মেয়াদি পলিসি দিয়ে বাজারের জন্য কোনো লাভ হচ্ছে না। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটা পলিসি নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেওয়া হবে তারল্য সুবিধাও।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, পুঁজিবাজারে যেন টাকা যায়, সেই ব্যবস্থাই নেওয়া হবে। এটা তহবিল গঠন করেও দিতে পারি। আবার রেগুলার বেসিসেও দিতে পারি। অর্থাৎ যতটুকু দরকার ততটুকুই দেওয়া হবে। শুধু আলাদা তহবিলই নয়, আলাদা কমপ্রিহেনসিভ নীতিমালাও করা হচ্ছে। যাতে এটা দীর্ঘ মেয়াদে সাসটেইন করে। তবে তহবিলের চেয়ে নীতিমালার বিষয়টিও এখানে মুখ্য। কারণ টাকা দিয়ে লাভ হবে না, যদি পলিসি কাজ না করে।

এদিকে গতকাল রবিবার বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের বৈঠকে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতায় ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে গভর্নর জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এমন পলিসি নেওয়া হবে, যেটা দীর্ঘ মেয়াদে সাসটেইনেবল হবে। একই সঙ্গে তারল্য সরবরাহ বাড়ানোরও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমান পুঁজিবাজার নিয়ে আজকে (গতকাল) বিএমবিএর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সভায় পুঁজিবাজারের বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি বিএমবিএর প্রস্তাবিত বিশেষ তহবিল নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে মর্মে তাদের জানানো হয়েছে। পুঁজিবাজারের বৃহত্তর স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে বলে প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেছেন গভর্নর।

একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর তারল্য সরবরাহ ও নীতি সহায়তা উভয় বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত ঘোষণা আসবে বলে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়েছে। অর্থাৎ তারল্যের ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সেই সঙ্গে সহায়ক নীতিও নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে বাজার দীর্ঘ মেয়াদের জন্য স্থিতিশীল হয়। বিএমবিএ প্রস্তাব অনুযায়ী তহবিল দেওয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সিরাজুল ইসলাম বলেন, এভাবে তহবিল দেওয়া হবে না। তবে এমন কিছু করা হবে যেখানে তারল্য সুবিধার বিষয় থাকবে, আবার নীতি সহায়তাও মিলবে। আর এই পদক্ষেপ পুঁজিবাজারকে ভালো অবস্থানে নিতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে আরো জানা যায়, বৈঠকে পুঁজিবাজারে ভালো কম্পানিগুলো কেন আসছে না সেটা সম্পর্কে গভর্নর জানতে চাইলে প্রতিনিধি এর কারণ হিসেবে মাল্টিপল ট্যাক্সেশনের কথা বলেছেন। এ ছাড়া কম্পানিগুলো লিস্টেড হলে যে ট্যাক্স রিবেট সুবিধা দেওয়া হয় সেটার যৌক্তিকতা নিয়েও আলোচনা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা