kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

সিটি নির্বাচনের কবলে বিডিএফ সম্মেলন!

আদালতের দিকে তাকিয়ে ইআরডি

আরিফুর রহমান   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিটি নির্বাচনের কবলে বিডিএফ সম্মেলন!

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন আর উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) সম্মেলন একই তারিখে হওয়ায় অনেকটা বিপাকে পড়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। দুই দিনের সম্মেলন এক দিনে নামিয়ে আনার প্রস্তাবেও সন্তুষ্ট নন বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা। এক দিনের জন্য সম্মেলন কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে তাঁদের। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফিলিপাইন ও জাপানের মতো দেশ থেকে মাত্র এক দিনের জন্য ঢাকায় সম্মেলনে আসতে চান না বেশ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা। তা ছাড়া নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। এখন পর্যন্ত অনেক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার নীতিনির্ধারকরা ঢাকায় আসার বিষয়ে সম্মত হননি। তবে ইআরডি কর্মকর্তাদের আশা জাগাচ্ছে একটি রিট আবেদন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণের তারিখে সরস্বতী পূজা। ওই দিন ভোটের তারিখ পরিবর্তন করতে আদালতে রিট আবেদন করেন আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত জানা যাবে—নির্বাচন কী ৩০ জানুয়ারি হবে নাকি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আদালতের দিকে তাকিয়ে আছি। যদি ভোটগ্রহণের তারিখ পরিবর্তন হয়, তাহলে আমরা সম্মেলন দুই দিনই করব। আর যদি ভোটগ্রহণের তারিখ ৩০ জানুয়ারিই ঠিক থাকে, তাহলে আমরা সম্মেলন এক দিনে করব।’ ইআরডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি দুই বছর পর বিডিএফ সম্মেলন হওয়ার প্রথা। এর আগে বিডিএফ সম্মেলনটি হয়েছিল ২০১৭ সালে জানুয়ারি মাসে। কর্মকর্তারা বলছেন, নানা কারণে এবারের বিডিএফ সম্মেলনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের সম্মেলনে উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে তুলে ধরা হবে সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার রূপরেখা। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৪ সাল নাগাদ বাস্তবায়িত হবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনা উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে তুলে ধরবে সরকার।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বেসরকারি খাতের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় অংশীদারির ভিত্তিতে কাজ করা, সবার জন্য সমান সুবিধা রেখে গ্রামীণ রূপান্তর, সবার জন্য গুণগত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিডিএফ সম্মেলনে আলোচনা হওয়ার কথা। ভোটগ্রহণের তারিখ যদি পরিবর্তন হয়, তাহলে সম্মেলন হবে দুই দিনের। সে ক্ষেত্রে নতুন দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে আলোচনায়। সেগুলো হলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই নগরায়ণ।

ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, গত তিন অর্থবছর ধরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি অর্জিত হয়েছে। গত অর্থবছর রেকর্ড ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এবারের বিডিএফ সম্মেলনে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের আলোচ্যসূচি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবারের সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার পর সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রাখা, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়ন। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনের ইশতিহারে আমার গ্রাম আমার শহরের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেটি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচক নিয়েও আলোচন হবে সম্মেলনে।

ইআরডির এক কর্মকর্তা জানান, সম্মেলন যদি দুই দিন করা যায়, সে ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বে এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব চলছে। শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা