kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

এমডি নিয়োগ ডিএসইতে বিভক্তি

৪ বছর ৮ মাস পেছনে ফিরল পুঁজিবাজার

রফিকুল ইসলাম   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৪ বছর ৮ মাস পেছনে ফিরল পুঁজিবাজার

অব্যাহতভাবে শেয়ার বিক্রি করতে থাকায় পুঁজিবাজারের মূল্যসূচকে বড় পতন ঘটেছে, যাতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক সাড়ে চার বছর পেছনে ফিরে গেছে। বিক্রির চাপে ৮৮ শতাংশ কম্পানির শেয়ারের দাম কমে গেছে। এক দিনে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ছয় হাজার কোটি টাকা। ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ সালের ৭ মে ডিএসইর মূল্যসূচক গতকালের চেয়ে কম ছিল। অর্থাৎ পুঁজিবাজার চার বছর আট মাস পেছনে ফিরে গেছে। মাসের হিসাবে ৫৬ মাস পেছনে ফিরল পুঁজিবাজার।

গতকালের বড় ধসের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ডিএসইর এমডি নিয়োগ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে বাজারকে ফেলে দিতে একটি পক্ষ টানা শেয়ার বিক্রি করেছেন। আস্থাহীনতার কারণে দীর্ঘদিন থেকে বাজার মন্দা। পর্ষদে দ্বিধা-বিভক্তির কারণে বিনিয়োগকারীর আস্থাহীনতা আরো জোরালো হয়েছে।

ডিএসই সূত্র জানায়, এমডি নিয়োগ নিয়ে পর্ষদে দ্বিধাবিভক্ত প্রস্তাব এসেছে। গত ৯ জানুয়ারি ডিএসইর পর্ষদসভায় আইসিবির সাবেক এমডি কাজী ছানাউল হককে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভায় উপস্থিত ১০ জনের মধ্যে ছয়জন পক্ষে আর চারজন আপত্তি জানায়। এই চারজনের মধ্যে তিনজন বা ৭৫ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার প্রতিনিধি তীব্র আপত্তি জানান।

পর্ষদ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়লেও কাজী ছানাউল হককে এমডি হিসেবে নিয়োগ দিতে সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ডিএসই পর্ষদ। এদিকে তাঁকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দিতে আপত্তির কারণ জানিয়েও পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছে ডিএসইর চারজন পরিচালক। ওই চিঠিতে এমডি নিয়োগে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আনা হয়। তবে এমডি নিয়োগ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এখনো সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর বড় ভূমিকা রয়েছে। তবুও তাঁরা নানা কারণে বাজারে নিষ্ক্রিয়। আর তাঁদের সংঘবদ্ধ নীরবতায় পুঁজিবাজার খাদের কিনারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার তলানিতে গিয়ে ঠেকলেও স্বার্থের দ্বন্দ্বে হাত গুটিয়েছেন তাঁরা। বড়রা অব্যাহতভাবে শেয়ার বিক্রি করায় স্বল্প মূলধনের বিনিয়োগকারীরাও আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করেছেন।

যদিও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বলছেন, তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত মূলধন নেই। বাজার সাপোর্ট দিতে সরকার মূলধন জোগান দিলে বাজারে গতি ফিরত। এ নিয়ে স্টেকহোল্ডাররা সরকারের কাছে একটি প্রস্তাবনাও দিয়েছেন কিন্তু কার্যত কোনো ফল আসেনি।

জানতে চাইলে এক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ ব্যক্তি নাম না প্রকাশের শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে চরম আস্থার সংকট। টানা মন্দাবস্থার কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। নতুন করে এমডি নিয়োগ নিয়ে পর্ষদ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ায় আস্থার সংকট আরো বেড়েছে। অব্যাহত বিক্রির চাপে পুঁজিবাজারে বড় পতন হয়েছে।’

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে এখন সীমাহীন সংকট। আস্থা নেই বিনিয়োগকারীদের। সরকারের কাছে সমস্যা তুলে ধরেও বাজারে গতি ফেরাতে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। প্রাইমারি রেগুলেটর হিসেবে ব্রোকারেজ হাউস শেয়ার কিনে বাজার সাপোর্ট দিতে পারে কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হবে না। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।’

সাড়ে চার বছর পেছনে বাজার : বিক্রির চাপ বেশি থাকায় ডিএসইর মূল্যসূচক সাড়ে চার বছর পেছনে ফিরে গেছে। গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ৮৮ পয়েন্ট বা ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক দাঁড়িয়েছে চার হাজার ১২৩ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া কম্পানির মধ্যে ৮৮ শতাংশের শেয়ারের দাম কমেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা