kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে ধস

রফিকুল ইসলাম   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে ধস

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস পুঁজিবাজার থেকেই মূলধন পেতে আগ্রহী শিল্প-উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। তবে আইন-কানুনে জটিলতা ও মূলধন উত্তোলনের ছাড়পত্রের বিলম্বে বিমুখ হচ্ছেন তাঁরা। সম্প্রতি দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুটি কম্পানি মূলধন উত্তোলনের আবেদন ফিরিয়ে নিয়েছে। আর দেড় ডজনের বেশি কম্পানি মূলধন উত্তোলনে আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলনে ধস নেমেছে। গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যক কম্পানি মূলধন উত্তোলন করেছে। নতুন কম্পানির শেয়ারে জোগান না বাড়ায় সক্রিয় হতে পারেনি বিনিয়োগকারীরা। বরং পুঁজিবাজারে থাকা দুর্বল কম্পানির শেয়ার নিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে চাঙ্গা হয়েছিল পুঁজিবাজার। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর নিষ্ক্রিয়তা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর আস্থাহীনতায় পুঁজিবাজারে পতন চলছে। বিনিয়োগকারীরা লোকসানে পড়ার পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে পুঁজিবাজার থেকে আটটি কম্পানি মূলধন উত্তোলন করেছে। মূলধন উত্তোলনের পরিমাণ ৬১৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। তবে আশুগঞ্জ পাওয়ারের ১০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর সাবস্ক্রিপশন শেষ না হওয়ায় কম্পানির শেয়ার ইস্যু করে মূলধন উত্তোলন করে ৫১৪ কোটি টাকা, যা গত ১১ বছরের মধ্যে সবনিম্ন মূলধন উত্তোলন। এই সময়ের মধ্যে ২০১০ সালে সবচেয়ে বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়। ওই বছরে তিন হাজার ৩৯০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করে কম্পানিগুলো। ২০১১ সালেও তিন হাজার ২৩৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করে কম্পানিগুলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হলেও মূলধন পেতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় অনেকে আসতে চাচ্ছে না। ঋণের জন্য প্রথাগত ব্যাংকের দ্বারস্থ হচ্ছেন উদ্যেক্তা ও ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ মেয়াদে এই ঋণ নেওয়ায় খেলাপির পরিমাণও বাড়ছে। পুঁজিবাজার গতিশীল ও ব্যাংকের খেলাপি কমাতে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে জোর দেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্র জানায়, চলতি বছরে স্থির মূল্য পদ্ধতি বা প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা হিসেবে ছয় কম্পানি ২৬৪ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করে আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে দুটি কম্পানি ২৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। নতুন কম্পানির তালিকাভুক্তি ও রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কম্পানিগুলো মূলধন সংগ্রহ করে।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালে মূলধন উত্তোলন হয় ৬০১ কোটি টাকা। স্থির মূল্যে ১১টি কম্পানি ২৬৬ কোটি টাকা আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে দুই কম্পানি ২৮০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। রাইট শেয়ার ইস্যুসহ ওই বছর ৬৫৫ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন হয়।

২০১৭ সালে পুঁজিবাজার থেকে এক হাজার ৪৪২ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করা হয়। ২০১৬ সালে মূলধন উত্তোলন ৯৫০ কোটি টাকা, ২০১৫ সালে ৬৭৫ কোটি টাকা, ২০১৪ সালে তিন হাজার ২৬৩ কোটি টাকা, ২০১৩ সালে ৯১০ কোটি টাকা, ২০১২ সালে এক হাজার ৮৪২ কোটি টাকা, ২০১১ সালে তিন হাজার ২৩৩ কোটি টাকা, ২০১০ সালে তিন হাজার ৩৯০ কোটি টাকা ও ২০০৯ সালে ৯১৭ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করা হয়।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ একটি বড় বাধা। শেয়ারবাজার থেকে ফান্ড সংগ্রহের জন্য কোনো উদ্যোক্তা দুই বছর অপেক্ষা করবে না। তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ দেওয়ার জন্য বসে রয়েছে। ভালো কম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার জন্য দীর্ঘসূত্রতা বড় বাধা।

৪৫০০ পয়েন্টের নিচে ডিএসইর সূচক : বিক্রির চাপে ক্রমাগত পতনে থাকা দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক কমতে কমতে তলানিতে নেমেছে। গতকাল দেশের দুই পুঁজিবাজারে সূচকের সঙ্গে লেনদেনে পতন ঘটেছে। ডিএসইর সূচক কমেছে প্রায় ১৬ পয়েন্ট আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক কমেছে ৩৫ পয়েন্ট। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩০৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। দিন শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৯৮ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৩৮ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছে ৩৫ পয়েন্ট।

 

মন্তব্য

আইপিও বন্ধ করা যাবে না

মিনহাজ মান্নান ইমন, পরিচালক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) ভালো ও মন্দ উভয় কম্পানি ডিসক্লোজারস ভিত্তিতে বাজারে আসে কিন্তু আইপিওতে অনেক ফাঁকফোকর দিয়ে দুর্বল কম্পানি বাজারে এসেছে। কিন্তু বাজার গতিশীল করতে আইপিও বন্ধ করা যাবে না। নতুন আইপিও এলে বাজারে বিনিয়োগকারী ঢুকবে। ক্রেতা-বিক্রেতার শেয়ারের জোগান বাড়বে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা