kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

শাহজালাল বদলে দেবে তৃতীয় টার্মিনাল

♦ ২৮ ডিসেম্বর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
♦ পদ্মার ওপারে নতুন বিমানবন্দরও হবে
♦ বেবিচকের দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স : চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শাহজালাল বদলে দেবে তৃতীয় টার্মিনাল

যাত্রী সুবিধা বাড়াতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান দুটি টার্মিনালের পাশাপাশি আরেকটি তিনতলা টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। নানা সুযোগ-সুবিধাসংবলিত এই থার্ড টার্মিনালে দেশের প্রধান বিমানবন্দর বদলে যাবে। ২০১৭ সালে ২৪ অক্টোবর একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন হলেও নানা জটিলতায় তা আটকে যায়। অবশেষে ২৮ ডিসেম্বর এর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই ভবনের নকশা করেছেন স্থপতি রোহানি বাহারিন। ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টারসহ মোট ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকবে। আগমনীর ক্ষেত্রে পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন কাউন্টারসহ মোট ৫৯টি পাসপোর্ট এবং ১৯টি চেক-ইন অ্যারাইভাল কাউন্টার থাকবে। টার্মিনালে ১৬টি আগমনী ব্যাগেজ বেল্ট স্থাপন করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় এসব কথা জানান বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। এ সময় বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) মো. হাফিজুর রহমান, সদস্য (অর্থ) মো. মিজানুর রহমান, সদস্য (নিরাপত্তা) মো. শহীদুজ্জামান ফারুকী, সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর মো. খালিদ হোসেন, সদস্য (এটিএম) গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সাঈদ মেহবুব খান, সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন) গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. জিয়াউল কবীর, প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদ-উল-আহসানসহ বেবিচকের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আগামী ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে এক কোটি ২০ লাখ যাত্রীর সেবা প্রদানের সক্ষমতা অর্জন করবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রায় ৩০ লাখ বর্গফুট জায়গায় তৃতীয় টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে।

বেবিচকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব কাজে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের প্রকল্প পরিচালককে বরখাস্ত করা হয়েছে। আরো যদি কেউ জড়িত থাকে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি ঠিকাদার কম্পানিকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেবিচকেও কোনো দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স মেনে চলছি।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘থার্ড টার্মিনালে দুবাইসহ বিশ্বের উন্নত বিমানবন্দরে যে মানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে তা ব্যবহার করা হবে। বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আমাদের কর্মকর্তাদের কাছে পণ্য ক্রয়ের জন্য ধরনা দিয়েছে, প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমি নিজে এটি তদারকি করেছি। কিন্তু আমরা সেরাটাই দেব।’

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে শীতে পাখির উপদ্রব কমাতে যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে। এ ছাড়া বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বিশ্বমানের করতে এরই মধ্যে নতুন আরো কিছু যন্ত্রপাতি এসে গেছে। এগুলো শিগগিরই লাগানো হবে।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশই চায় বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করতে। কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। যেহেতু প্রতিবছরই যাত্রী বাড়ছে তাই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। তবে কক্সবাজার বিমানবন্দর চালু হলে চাপ অনেকটা কমবে।’

মফিদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ক্যাটাগরি মাঝখানে খারাপ হয়েছিল, সরকার দিকনির্দেশনা দেওয়ায় আমরা কাজ করে ক্যাটাগরিতে উন্নতি করেছি। লন্ডন ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমেরিকায় ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে চেষ্টা চলছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা