kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বহুমুখী চাপে পুঁজিবাজার

রফিকুল ইসলাম   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বহুমুখী চাপে পুঁজিবাজার

১০ হাজার কোটি টাকা ফান্ড দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মতামত চাইবে অর্থ মন্ত্রণালয়

ব্যাংক খাতে চলছে তারল্য সংকট। ব্যবসা সম্প্রসারণে ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না শিল্প-উদ্যোক্তা। আর ব্যাংক খাতের তারল্য সংকটে ভুগছে পুঁজিবাজার। কেবল তাই নয়, আমানতে উচ্চ সুদের কারণেও পুঁজিবাজার প্রভাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সংবেদনশীল পুঁজিবাজার বহুমুখী চাপে মন্দাবস্থার মধ্যে পড়েছে। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে নেতিবাচক অবস্থার কারণে পুঁজিবাজারের বিদেশি বিনিয়োগকারী পিছুটান দিয়েছে। তারল্য সংকটের কারণে পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান সক্রিয় হতে পারছে না। আর বড় বিনিয়োগকারী নিষ্ক্রিয় হওয়ায় স্বল্প মূলধনের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার বেচে নিরাপদ অবস্থান খুঁজছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর তিন মাসে মূল্যসূচক কমেছে ৪২০ পয়েন্ট আর বাজার মূলধন কমেছে দুই হাজার ৬৬২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কার্যদিবসেই শেয়ার বিক্রির চাপে পতন ঘটেছে। দৈনিক লেনদেনও তলানিতে। ১১ সেপ্টেম্বর সূচক ছিল চার হাজার ৯৩৩ পয়েন্ট। আর ১১ ডিসেম্বর সূচক দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৫১২ পয়েন্ট আর বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৬৯ হাজার ৬৯৪ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা দাঁড়ায় তিন লাখ ৪৩ হাজার ৬৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

বছরের শুরুতে চাঙ্গা মনোভাবে পুঁজিবাজার যাত্রা করলেও শেয়ার বিক্রির চাপে মন্দাবস্থার মধ্যে পড়ে পুঁজিবাজার। মন্দাবস্থা থেকে ফেরাতে স্টেকহোল্ডারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত সহায়তাও দিচ্ছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

স্টেকহোল্ডাররা বলছেন, পুঁজিবাজারে বর্তমানে তারল্য সংকট চলছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তারল্যের জোগান পাচ্ছে না। বাজারকে সাপোর্ট দিতে তারল্যের জোগান প্রয়োজন। স্টেকহোল্ডারদের তারল্যের জোগান দেওয়া গেলে ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, প্রাতিষ্ঠানিকরাও সক্রিয় হতে পারবে।

পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থার বিষয়ে জানতে তাঁরা বলছেন, পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীর বিক্রি বেড়ে গেছে। অর্থনীতি কয়েকটি সূচকের নেতিবাচক অবস্থার কারণে হয়তো এই বিক্রি বেড়েছে। মুদ্রার অবমূল্যায়নের শঙ্কা থেকেও তাঁরা বিক্রি বাড়িয়েছে। গ্রামীণফোনের সঙ্গে সরকারের দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতিও পুঁজিবাজারের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে।

পুঁজিবাজার গতিশীল করতে স্টেকহোল্ডাররা সরকারের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা চেয়েছেন। সেই টাকা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনাও করছেন তাঁরা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্টেকহোল্ডারদের তারল্য জোগান দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত চাইবে অর্থ মন্ত্রণালয়। শিগগিরই এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠাবে অর্থ মন্ত্রণালয়। মূলধন জোগান দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামত পাওয়ার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা