kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

২০১৮-১৯ অর্থবছর ♦ মাথাপিছু আয় ১৯০৯ ডলার

জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.১৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.১৫ শতাংশ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসেবে বিদায়ি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৮.১৫ শতাংশ। যদিও ওই অর্থবছরের আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ সাময়িক প্রাক্কলন করেছিল বিবিএস।

বছর শেষে দেখা গেল, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.১৫ শতাংশ। টাকার অঙ্কে জিডিপির আকার ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। আর বিদায়ি অর্থবছরে মাথাপিছু জাতীয় আয় হয়েছে ১৯০৯ ডলার। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, চূড়ান্ত হিসেবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। আমরা গত বছর সাময়িক প্রাক্কলন করেছিলাম ৮.১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। সেটি চূড়ান্ত হিসেবে দেখা গেছে ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মাথাপিছু জাতীয় আয়ের ক্ষেত্রে একটি ঘটনা ঘটেছে। সেটি হলো ডলারের দিক দিয়ে মাথাপিছু জাতীয় আয় গত বছর সাময়িক যে প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৯০৯ ডলার, চূড়ান্ত হিসাবে তা-ই রয়েছে। কিন্তু ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার কারণে বিদায়ি বছর মাথাপিছু জাতীয় আয় ৩৮০ টাকা বেড়েছে। এর ব্যাখ্যা দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছর আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মাথাপিছু জাতীয় আয় দেখা গেছে এক হাজার ৯০৯ ডলার। টাকার অঙ্কে যা ছিল এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। পুরো অর্থবছর শেষে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই সময় ডলারের দাম বেড়েছে। এতে মাথাপিছু জাতীয় আয় বেড়ে হয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার ৪৪০ টাকা। অর্থাৎ ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমায় মাথাপিছু জাতীয় আয় বেড়েছে ৩৮০ টাকা। মাথাপিছু জাতীয় আয় ডলারের দিক দিয়ে সমান থাকলেও টাকার অঙ্কে বেড়েছে।

বিদায়ি অর্থবছরে ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁরা বলেছেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির সব সূচক নিম্নমুখী। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমেছে, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বাড়ছে না। রাজস্ব আদায়ের হার কম, আমদানিও কম হয়েছে। তাহলে কিসের ওপর ভিত্তি করে ৮.১৫ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, বিদায়ি অর্থবছরে এক রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির সব সূচকের অবস্থা ভালো ছিল না। তাহলে যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, সেটি কি কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি? তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়ছে না, রপ্তানি কমছে, আমদানিও কমছে। তাহলে প্রবৃদ্ধি ৮.১৫ শতাংশ অর্জিত হয় কিভাবে।

বিবিএসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিদায়ি অর্থবছরে মূলত সেবা খাতের ওপর ভর করেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কৃষি ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমেছে। কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৯২ শতাংশ; যা আগের অর্থবছর ছিল ৪.১৯ শতাংশ। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি  হয়েছে ৬.২১ শতাংশ। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৬.৩৭ শতাংশ। আর সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬.৭৮ শতাংশ। আগের বছর যা ছিল ৬.৩৯ শতাংশ। বিবিএসের দেওয়া তথ্য মতে, বিদায়ি অর্থবছরে বিনিয়োগ হয়েছে মোট জিডিপির ৩১.৫৭ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ হয়েছে ২৩.৫৪ শতাংশ, সরকারি বিনিয়োগ ৮.০৩ শতাংশ।

 

সংবাদ সম্মেলন

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির নায়ক পেঁয়াজ!

এম এ মান্নান, পরিকল্পনামন্ত্রী

চাল, ডাল, আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বছরজুড়ে স্থিতিশীলই ছিল। ফলে মূল্যস্ফীতির হারও এত দিন ৬ শতাংশের নিচেই ছিল। কিন্তু এক পেঁয়াজের ঝাঁঝে বছরের শেষে এসে এলোমেলো হয়ে গেছে মূল্যস্ফীতির হার। সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে পেঁয়াজকে প্রধান নায়ক বলে উল্লেখ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

গতকাল একনেকের সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নভেম্বরে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬.০৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা এক মাস আগে ছিল ৫.৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ০.৫৮ শতাংশ। এক বছর আগে নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫.৩৭ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে গড় মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে ০.৬৮ শতাংশ।

রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো তথ্য গোপন করিনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে যা পেয়েছে; তাই দেখিয়েছে। নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এটা পরিষ্কার। এর প্রধান কারণ পেঁয়াজ। তবে মন্ত্রী দাবি করেন, এ মাসের মধ্যেই পেঁয়াজের দাম আসবে। অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও কমে আসবে। এতে করে গড় মূল্যস্ফীতিও কমবে।

বিবিএসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নভেম্বরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হারও বেড়েছে। বিবিএস বলেছে, অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে এসে পেঁয়াজের পাশাপাশি চাল, আলু, পটোল, চিচিংগা, ঢেঁড়স, শসার দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে মসলাজাতীয় দ্রব্য বিশেষ করে আদা ও রসুনের দামও বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে গড় মূল্যস্ফীতির ওপর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা