kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

পোশাক রপ্তানি প্রণোদনা

জ্ঞান আহরণে চার দেশ ভ্রমণে ৪ কর্মকর্তা

সজীব হোম রায়   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানির অবস্থা ভালো নেই। গত জুন মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। তাই তৈরি পোশাক খাতে আরো প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। আর এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় প্রতিযোগী চার দেশে এই খাতে কী ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয় তা জানতে উপসচিব এবং যুগ্ম সচিব পর্যায়ের চার কর্মকর্তাকে চার দেশে পাঠাচ্ছে। চার দেশ ঘুরে কর্মকর্তারা সরেজমিনের জ্ঞান দিয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তবে তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে সরেজমিনে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে এক হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স পাঠালে প্রশ্ন ছাড়াই প্রণোদনা পাবেন প্রবাসীরা। তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজেএমইএ এই খাতের জন্যও অনেকটা একই রকম প্রণোদনা চাইছেন। এ ক্ষেত্রে তারা রপ্তানি আয়ে প্রতি ইউএস ডলারের বিপরীতে পাঁচ টাকা হারে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি করেছে। বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠিও লিখেছেন।

গত রবিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল রপ্তানি খাতকে কিভাবে প্রণোদনা দেওয়া যায় তা নিয়ে বৈঠকও করেছেন। আর সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রতিযোগী ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে তৈরি পোশাক খাতে কী ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয় তার বিস্তারিত তথ্য নেওয়ার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এ জন্য এ চার দেশে উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তার ভিত্তিতেই তৈরি পোশাক খাতকে নতুন সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, পোশাক খাতের রপ্তানি বাড়ানোই আমাদের উদ্দেশ্য। আর এ জন্য প্রতিযোগী দেশগুলো কী সুবিধা দিচ্ছে তা জানা প্রয়োজন। কর্মকর্তারা সরেজমিনে বিদেশ গেলে বাস্তব চিত্র উঠে আসবে। কম্পিউটার ঘেঁটে বাস্তব চিত্র পাওয়া সম্ভব নয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে বিআইবিএমের সাবেক ডিজি ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী প্রশ্ন রেখে বলেন, রপ্তানি কমার প্রধান কারণ কি প্রণোদনা? নাকি অন্য কিছু? সরকারের উচিত কারণ খুঁজে বের করা। প্রণোদনা বাড়িয়ে কতটুকু লাভ হবে তা জানা নেই। আর বিদেশে তো আমাদের দূতাবাস রয়েছে। এসব দূতাবাসে কমার্শিয়াল অ্যাটাচি আছেন। তাঁদের দায়িত্ব দিলেই তো প্রণোদনার তথ্য জানা যায়। কর্মকর্তা পাঠানোর দরকার কি? সরকারের আরো কিছু টাকা ব্যয় করা কি খুব প্রয়োজন?

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা