kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভ্যাট সম্মাননা

জাতীয় পর্যায়ে পাচ্ছে ৯ প্রতিষ্ঠান

ফারজানা লাবনী   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জাতীয় পর্যায়ে পাচ্ছে ৯ প্রতিষ্ঠান

গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি বারেও রাজস্ব আদায়ের প্রধান খাত ভ্যাট (ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) বা মূসক (মূল্য সংযোজন কর)। ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে সমগ্র রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন রাজস্ব খাতসংশ্লিষ্টরা। সাধারণ মানুষকে ভ্যাট প্রদানে উৎসাহ দিতে প্রতিবছরের মতো এবারেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সারা দেশে ১০ ডিসেম্বর ব্যাপক আয়োজনে জাতীয় ভ্যাট দিবস পালন করতে যাচ্ছে।

এনবিআর জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ভ্যাট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআর প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের করা হবে। এ ছাড়া ভ্যাটের গুরুত্ব বিষয়ে সেমিনার, সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতাদের সম্মাননাও দেওয়া হবে।

ভ্যাট দিবস বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে এনবিআর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের। বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

এবারে জাতীয় পর্যায়ে ৯টি এবং জেলা পর্যায়ে ১৩৫ প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট সম্মাননা দেওয়া হবে। সম্প্রতি এনবিআর থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এবার জাতীয়ভাবে উৎপাদন পর্যায়ে স্কয়ার ফর্মুলেশন, ঢাকার এরিস্টোফার্মা, হবিগঞ্জের রশিদপুরের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্ট। ব্যবসা পর্যায়ে ঢাকার হ্যামকো করপোরেশন, গাজীপুরের এসসি জনসন, রাজধানীর সিমেন্স হেলথ কেয়ার এবং সেবা পর্যায়ে চট্টগ্রামের চিটাগাং ওয়্যারহাউস লিমিটেড, কাতার এয়ারওয়েজ ও থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল।

জেলা পর্যায়ে উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসা খাতে ১৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট সম্মাননা দেওয়া হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম হলো ঢাকা জেলার বার্জার পেইন্টস, সিনকস ইঞ্জিনিয়ার্স, ফাইবার এট হোম, ময়মনসিংহ জেলার এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জের অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, নরসিংদী আরএফএল ইলেকট্রনিকস, সিলেটে ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেড (কেএফসি), চট্টগ্রামে ব্র্যাক আড়ং, মানিকগঞ্জে নিপ্পন পেইন্টস, কক্সবাজারে ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আকিজ অ্যাগ্রো প্রসেসিং ফ্যাক্টরি, নওগাঁয় এসআর ট্রাভেলস, রাজশাহীতে নিটল নিলয় ফিল্টার ইন্ডাস্ট্রিজ, মৌলভীবাজারে ইস্পাহানি টি লিমিটেড, হবিগঞ্জে গ্রিন প্ল্যানেট রিসোর্ট, কুমিল্লার এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশ, নোয়াখালী গ্লোব ড্রাগস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হোটেল উজান ভাটি, বরিশালে অলিম্পিক সিমেন্ট, সাতক্ষীরার পানসি রেস্তোরাঁ, গোপালগঞ্জ সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস, টাঙ্গাইলে ভিকার কংক্রিট এন্টারপ্রাইজ, খাগড়াছড়িতে অরণ্য বিলাস, বান্দরবান হোটেল হিলভিউ রেসিডেন্সিয়াল, নাটোরে নাটোর অ্যাগ্রো, বগুড়ার এ বি সিরামিকস, কিশোরগঞ্জ এম এ খান ফুড, নেত্রকোনার বার্জাজ কর্নার, শেরপুরে চারু সুইটস, মুন্সীগঞ্জে সুপার ফরমিকা অ্যান্ড লেমিনেশন লিমিটেড, সিরাজগঞ্জে ধানসিঁড়ি দই ঘর, কুমিল্লার শফিউল আলম স্টিল রি-রোলিং মিলস।

প্রতিবছরই ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়। গত অর্থবছরে আগের অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৮৩ হাজার কোটি টাকা থেকে ৩২.৫৩ শতাংশ বাড়িয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভ্যাট খাতে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয় এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

এবার ভ্যাট খাতে লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়িয়ে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

যেভাবে এলো জাতীয় ভ্যাট দিবস

এ কে এম মাহবুবুর রহমান

মহাপরিচালক, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি, চট্টগ্রাম

১৯৯১ সালে বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট চালু করা হয়। শুরুর দিকে এই করব্যবস্থা তেমন জনপ্রিয় না হলেও ধীরে ধীরে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তখন ভ্যাট নিয়ে গণমাধ্যমে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণাও ছিল না। আইন বিষয়ে করদাতাদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে কিছু পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়। এগুলো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে অল্পসংখ্যক করদাতার হাতে পৌঁছে।

২০০৮ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সারা দেশে ঘটা করে আয়কর মেলা ও আয়কর দিবস উদ্‌যাপনের উদ্যোগ নেয়। এই আয়োজন করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়। করদাতারা ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আয়কর বিষয়ে জানার কৌতূহল ও সচেতনতা তৈরি হয়। এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০১০ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জাতীয় পর্যায়ে ভ্যাট দিবস পালনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব করে। ১০ জুলাই ১৯৯১ তারিখে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১ চালু হয় বলে এই দিনটিতেই ভ্যাট দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১১ সালের ১০ জুলাই প্রথমবারের মতো সারা দেশে জাতীয় মূসক দিবস পালিত হয়। মূসক দিবস উপলক্ষে সারা দেশে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, টিভিসি, গান, নাটিকা ইত্যাদির মাধ্যমে মূসক বা ভ্যাট বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভ্যাট বিষয়ে জনগণের আগ্রহ-কৌতূহল বৃদ্ধি পায়। বিশেষত ভ্যাট চালানপত্র নেওয়ার ব্যাপারে ভোক্তাদের সচেতনতা আগের চেয়ে অনেকাংশেই বৃদ্ধি পায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা