kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

উন্নত দেশে যেতে রূপকল্প ২০৪১-এর রোডম্যাপ বা পথচিত্র তৈরি করেছে সরকার। আগামী ২০ বছরের জন্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় এমন সব সংস্কার কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে যার ফলে সার্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন সূচিত হবে। এ নিয়ে আজকের বিশেষ আয়োজন

রূপকল্প ২০৪১ : উন্নত দেশের পথচিত্র

প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ, দারিদ্র্য কমে হবে ৫ শতাংশ

ফারুক মেহেদী   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রূপকল্প ২০৪১ : উন্নত দেশের পথচিত্র

উন্নত দেশে যেতে রূপকল্প ২০৪১-এর রোডম্যাপ বা পথচিত্র তৈরি করেছে সরকার। আগামী ২০ বছরের জন্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় এমন সব সংস্কার কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে যার ফলে সার্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন সূচিত হবে। ফলে ওই সময়ে বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৯.৯ শতাংশ। মানুষের গড় মাথাপিছু আয় গিয়ে ঠেকবে সাড়ে ১২ হাজার ডলারে। চরম দারিদ্র্য বলতে কিছু থাকবে না। অর্থাৎ তা শূন্যে নেমে আসবে। মাঝারি দারিদ্র্যও কমে আসবে ৫ শতাংশের নিচে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের তৈরি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১-এর সারসংক্ষেপ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওই সারসংক্ষেপে বলা হয়, উচ্চ প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে উঠে টেকসই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। এ জন্য প্রয়োজন ফলপ্রসূ করব্যবস্থা ও ব্যয় সংকোচন নীতিমালা। তার সঙ্গে যোগ হয় সঞ্চয়, প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা, পরিবহন, বাণিজ্য, জ্বালানি ও গুণগত বিনিয়োগ। এর সঙ্গে আরো অনেক কিছুর মেলবন্ধন ঘটিয়ে গড়ে উঠে একটি উন্নত দেশের ভিত্তি। এ লক্ষ্যে চারটি প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো সুশাসন, গণতন্ত্রায়ণ, বিকেন্দ্রীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি।

বলা হয়, এসবে ভর করেই এগোবে উন্নত বাংলাদেশ। আর তখন বর্তমানের কর-জিডিপি অনুপাত ৯ শতাংশ থেকে তা পৌঁছে যাবে ১৭ শতাংশে। এ লক্ষ্যে বাড়বে করের পরিধি, পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা কমে প্রত্যক্ষ কর বিশেষ করে আয়কর ও ভ্যাট আদায় বাড়ানো হবে। মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষকে বেশি আক্রান্ত করে। তাই ২০৪১ সালে মূল্যস্ফীতির হার কমিয়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা হবে।

বাণিজ্য কাঠামোও ব্যাপকভাবে পরিবর্তন আনা হবে। পোশাক খাতে যেভাবে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, একই ভাবে অন্য খাতে প্রণোদনা দিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণ শক্তিশালী করা হবে। উৎপাদন, বণ্টন থেকে শুরু করে জাহাজীকরণ পর্যন্ত সর্বস্তরে একটি সহজ, সুন্দর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে যেভাবে একটি শক্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গড়ে তোলা হয়েছে, এ ধারা আরো শক্তিশালী করা হবে।

বিনিয়োগকে ওই রূপকল্পেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তা গড়ে ৩৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে। অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়, উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এটা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কৃষি খাতে যে প্রবৃদ্ধির ধারা বিশেষ করে চালের যে উচ্চ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি তা আরো বেগবান করা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়নেও বহুমুখী কার্যক্রমের কথা বলা হয়েছে সারসংক্ষেপে।

দেশ যত উন্নত হবে, ক্রমেই কমে আসবে বাণিজ্যসুবিধা। বিশেষ করে শুল্কমুক্ত সুবিধা সংকুচিত হবে। সারমর্মে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর বার্ষিক রপ্তানি কমবে ১১ শতাংশ, যা টাকার অঙ্কে ছয় বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ২০১৪ সালের পর ডাব্লিউটিওর অনেক ছাড়ও কমে যাবে। তখনকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

উচ্চ জিডিপি অর্জনে তখন নারীদের আরো কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে। পোশাক, পাদুকা, ইলেকট্রনিকস শিল্পে তাদের আরো বেশি কর্মসংস্থান করা হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ২০৪১ সাল নাগাদ ৯২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে এবং বছরে গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি হবে ৪৬০০ মেগাওয়াট।

ডিজিটাল সুবিধার ব্যাপক প্রসার ঘটানো হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ওই সময়ে বেসরকারি খাত ও বাজারব্যবস্থা অধিকতর উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হবে। কৃষি, ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিচর্যা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও থ্রি ডি মেটাল প্রিন্টিং প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এতে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে। ওই সময়ে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে সম্ভাব্য ক্ষতির চেয়ে বরং উপকার বাড়বে ৫০ শতাংশ। একই ভাবে উৎপাদন উপকরণ থেকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অবদান ০.৩ শতাংশে উন্নীত করা হবে ৪.৫ শতাংশে।

নগরায়ণে ব্যাপক কর্মসূচি ও পরিকল্পনা করা হয়েছে রূপকল্প ২০৪১-এর জন্য। বলা হয়েছে, এ খাতে বিনিয়োগ কর্মসূচি জিডিপির ২.৪ শতাংশ থেকে ২০৩১ সালে ৫ শতাংশ এবং ২০৪১ সালে তা ৭ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।

একই সময়ে জনসংখ্যার গুণগত মানোন্নয়ন করা হবে যাতে তা অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তখন সাক্ষরতা হবে শতভাগ, ১২ বছর বয়সীদের জন্য সর্বজনীন অবৈতনিক শিক্ষা, সর্বজনীন সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবীমা ও সবার জন্য পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক কার্যক্রমও নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা