kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

প্রণোদনা ও রপ্তানি আয়ের উৎস কর কমছে পোশাক খাতে

এম সায়েম টিপু   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রণোদনা ও রপ্তানি আয়ের উৎস কর কমছে পোশাক খাতে

দেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষ খাত তৈরি পোশাক শিল্প নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা ধরে রাখতে না পারা, কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার ফলে নারী শ্রমিকদের বিশাল কর্মসংস্থানের এ খাত হুমকির মুখে। তবে সরকার পোশাক খাতের যেকোনো সংকটে এগিয়ে আসে। এবারও পোশাক খাতকে সুরক্ষা দিতে প্রণোদনা ও রপ্তানি আয়ে উৎস করে আরো সুবিধা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রপ্তানি আয়ের ওপর ১ শতাংশ হারে উৎস কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিজিএমইএর দাবিতে সরকার গত অক্টোবর মাস থেকে ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.২৫ শতাংশ করে। তবে উৎস কর অক্টোবর থেকে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা থাকলেও বিজিএমইএর আপত্তির মুখে এই উৎস কর চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকেই কার্যকর করা হচ্ছে।

এ ছাড়া রপ্তানিকারদের জন্য দেওয়া ১ শতাংশ নগদ প্রণোদনার ওপর ১০ শতাংশ উৎস কর কমিয়ে আনা এবং রপ্তানি বিল অব এক্সচেঞ্জের ওপর ০.২ শতাংশ হারে স্ট্যাম্প শুল্ক কর্তন বাতিলের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। এনবিআর সূত্রে জানা যায়, এসব ব্যাপারে এরই মধ্যে সারসংক্ষেপ তৈরি হয়েছে—যেকোনো সময় পরিপত্র জারি হতে পারে।

জানা যায়, পোশাক খাতের নেতিবাচক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও চলমান সংকট নিয়ে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক হয়। সেখানে কিছু সমস্যা সমাধানেরও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হেসেন, তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক, সহসভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএ প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে উপস্থিত সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে বিজিএমইএ সব পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য ১ শতাংশ নগদ সহায়তা চায়। এ ছাড়া অন্য নগদ সহায়তা দ্রুত ছাড় করা, টাকার মান কমানো বা ডলারপ্রতি অতিরিক্ত পাঁচ টাকা বিনিময় হার দেওয়ার দাবি করেন বিজিএমইএ সভাপতি।

তিনি নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎস কর ও রপ্তানি বিলের ওপর স্টাম্প ডিউটি প্রত্যাহারেরও জোর দাবি জানান। রপ্তানি আয়ের বিপরীতে ০.২৫ শতাংশ উৎস কর চলতি অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে কার্যকর করা। ব্যাংক সুদের হার কমানো এবং ১৩৩টি রুগ্ণ শিল্পের ২৩৮ কোটি টাকার মূল ঋণ ও আরোপিত-অনারোপিত সুদসহ পাওনা মওকুফ করার প্রস্তাব করেন।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তৈরি পোশাকের রপ্তানি জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৯ সময় পর্যন্ত আয় অন্য বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেকাংশে কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানালে বাণিজ্যমন্ত্রী, এনবিআর, অর্থসচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রথম সপ্তাহে বৈঠক ও মাসের শেষ দিকে বৈঠকের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে অর্থমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় কিছুটা বিলম্ব হলেও; আশা করা হচ্ছে তিনি দেশে ফিরলে চলতি মাসের মধ্যে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা