kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

বিআইডিএসের জরিপ

ঢাকার ৭২ শতাংশই ভাড়াটিয়া

৩০ দিনই অসুস্থ থাকে ৬৮ শতাংশ
ঢাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ আসছে কিশোরগঞ্জ থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকার ৭২ শতাংশই ভাড়াটিয়া

প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাসের শহর ঢাকায় ৭২ শতাংশই ভাড়া বাসায় থাকে। সরকারি বাসায় থাকে ৬ শতাংশ মানুষ। আর নিজের কেনা বা পরিবার থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বাসায় বসবাস করছে ১৯ শতাংশ মানুষ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) পরিচালিত এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এ ছাড়া ঢাকায় গত পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী হয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে ১১.৪৮ শতাংশ। এর পরেই আছে দক্ষিণের জেলা বরিশাল। গত পাঁচ বছরে বরিশাল থেকে ঢাকায় এসেছে ৮ শতাংশ মানুষ। ময়মনসিংহ আছে তিন নম্বরে ৭.৬৬ শতাংশ। ১০ বছর আগে ঢাকায় অভিবাসী হওয়ার তালিকায় যে ১০টি জেলা ছিল সেখানে রংপুর জেলা ছিল না। কিন্তু পাঁচ বছরে রংপুর থেকে ৪ শতাংশ মানুষ ঢাকায় এসেছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপটি উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষক জুলফিকার আলী। জরিপে দেখা গেছে, ঢাকায় এখনো তিন বেলা খাবার পায় না সাড়ে ৩ শতাংশ মানুষ। যাকে উদ্বেগজনক বলছে বিআইডিএস। সরকার যেখানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দাবি করছে, সেখানে সাড়ে ৩ শতাংশ মানুষ তিন বেলা খাবার পায় না—এটাকে উদ্বেগজনক বলেছেন জুলফিকার আলী। আর বস্তি এলাকায় তিন বেলা খাবার পায় না ১৮ শতাংশ মানুষ। ঢাকায় তীব্র বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে জরিপে। দেখা গেছে, ওপরের ১০ শতাংশ (বেশি আয়ের) মানুষের কাছে মোট আয়ের ৪১ শতাংশই চলে যায়। মোট আয়ের ১ শতাংশও নিচের দিকের ১০ শতাংশের মানুষের কাছে পৌঁছায় না। ঢাকার ৯৩টি ওয়ার্ডের মধ্য থেকে ৩১টি ওয়ার্ড থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ১০০টি খানার মতামত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ৩১টি ওয়ার্ড থেকে মোট তিন হাজার ১০০ খানার সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জরিপটি করা হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া তিন হাজার ১০০টি খানার সদস্যদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ঢাকা শহরে সবচেয়ে বড় সমস্যা কী? উত্তরে ৯১.৫ শতাংশ বলেছে, প্রধান সমস্যা যানজট। দ্বিতীয় সমস্যা হিসেবে ৬৬ শতাংশ বলেছে, বায়ুদূষণ। জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বলেছে, সুপেয় পানির সংকট। উদ্বেগজনক খবর হলো, জরিপে অংশ নেওয়া ২৮ শতাংশ বলেছে, তারা ইভ টিজিংয়ের শিকার।

জুলফিকার আলী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করলেও ঢাকায় এখনো দারিদ্র্য ও খাদ্য অনিরাপত্তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আয়ের অসমতা দিন দিন বাড়ছেই। ১০ বছর আগেও যেখানে রংপুর থেকে অভিবাসী হওয়ার সংখ্যা কম ছিল, সেটি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর পরও ঢাকায় বসবাসরত মানুষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, এত সমস্যার পরও কেন ঢাকায় থাকেন? জবাবে জরিপে অংশ নেওয়া মানুষ বলেছে, এখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যগত ব্যবস্থা জেলা শহরের তুলনায় অনেক ভালো। আয়ও তুলনামূলক ভালো।

জরিপে ঢাকা শহরে স্বাস্থ্যগত দুর্বলতার বিষয়টি মারাত্মকভাবে উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১২ হাজার ৪৬৮ জনের মধ্যে মাসের ৩০ দিনই অসুস্থ থাকে ৬৮ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ আট হাজার ৪৮২ জন। বাকি তিন হাজার ৯৮৬ জন সুস্থ থাকে। শতাংশের দিক থেকে তা মাত্র ৩২ শতাংশ। কী ধরনের অসুস্থতা জানতে চাইলে ৪০ শতাংশ বলেছে, ডায়রিয়া, ডেঙ্গু, জ্বর-ঠাণ্ডা। ২২ শতাংশ বলেছে, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ। সবচেয়ে বেশি অসুস্থতায় ভোগেন পরিবহনসংশ্লিষ্ট চালক ও হেলপাররা। তারা সংখ্যায় তিন হাজার ২২৭ জন। শতাংশের দিক থেকে ৩৩ শতাংশ। এর পরেই আছে হোটেল বয় ও দর্জিতে কাজ করার শ্রমিক। এর পরে আছে সরকারি ও বেসরকারি চাকুরে। আছে ব্যবসায়ী। এরপর আছে বেকার।

জরিপে দেখা গেছে, ঢাকায় অবস্থানরত একজন নাগরিকের মাসে চিকিৎসা সেবাতে খরচ হয় সাত হাজার ৪১৭ টাকা। এর মধ্যে পরোক্ষ খরচ বা আয়ের ক্ষতি হচ্ছে চার হাজার ৩৭৪ টাকা। সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে খরচ হয় দুই হাজার ২৫০ টাকা। এই স্বাস্থ্যসেবার পেছনে একজন দরিদ্র মানুষের বড় একটি অংশ আয়ের টাকা খরচ হয়ে যায়। যাদের মাসিক আয় পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা তাদের ৩২ শতাংশই খরচ হয়ে যায় স্বাস্থ্যসেবায়।

জুলফিকার আলী বলেন, জরিপে দেখা গেছে, ঢাকায় বসবাসরত প্রায় দুই কোটি মানুষের মধ্যে দরিদ্র নয়, এমন নিরাপদ অবস্থানে আছে ৬৩ শতাংশ। দরিদ্র্যের হার ১৭ শতাংশ। আর ২০ শতাংশ আছে যাদের পরিবারে কোনো একটি দুর্যোগ বা সমস্যা এলেই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। জরিপটি পরিচালনা করেছেন বিআইডিএসের পাঁচজন গবেষক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা