kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

স্বর্ণালংকার আমদানির সুযোগ বন্ধের দাবি বাজুসের

ভ্যাট দেড় শতাংশ করার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বর্ণালংকার আমদানির সুযোগ বন্ধের দাবি বাজুসের

দেশীয় ব্যবসায়ী ও কারিগরদের রক্ষায় স্বর্ণবার আমদানির সুযোগ রেখে স্বর্ণালংকার আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এ ছাড়া এ খাতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে দেড় শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি একটি ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠারও দাবি জানান তাঁরা। গতকাল সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বার্ষিক সাধারণ সভা ও নতুন কমিটির অভিষেক নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় বাজুস। এ সময় বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান দোলন ও সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাসহ সংগঠনের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, দীর্ঘদিন পর স্বর্ণ আমদানির নীতিমালা করেছে সরকার। সেই নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক স্বর্ণের বার ও স্বর্ণালংকার আমদানির বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে, সেখানে স্বর্ণের বারের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার আমদানির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাজুসের দাবি দেশের ব্যবসায়ী ও কারিগরদের স্বার্থে স্বর্ণালংকার আমদানি যেন না হয়।

তিনি জানান, যুগ যুগ ধরে দেশের একটা বিশাল গোষ্ঠী স্বর্ণালংকার তৈরিতে কাজ করছে। আমরা যদি অলংকার আমদানি করি তাহলে তারা বেকার হয়ে যাবে। তাই তাদের কথা চিন্তা করে স্বর্ণালংকার আমদানি যেন না হয় সে বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

স্বর্ণ খাতে বিদশি বিনিয়োগ এখনই উন্মুক্ত না করার দাবি জানিয়ে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মহল থেকে শুনতে পাচ্ছি বিদেশি বিভিন্ন নামি-দামি জুয়েলারি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে ব্যবসা করতে চাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর আমাদের আমদানি নীতিমালা হয়েছে। এই মুহূর্তে যদি বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান দেশের বাজারে ব্যবসা শুরু করে তাহলে আমাদের দেশীয় শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠান যেন এই মুহূর্তে না আসে এই দাবি জানাচ্ছি।’

স্বর্ণের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি শুল্ক ও স্বর্ণ বিক্রয়ের ওপর ভ্যাট কমানোর দাবি জানিয়ে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বর্তমানে স্বর্ণের ওপর ক্রেতাদের ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। এটা কমিয়ে দেড় শতাংশ করার দাবি জানাচ্ছি। কারণ বেশি ভ্যাটের জন্য আমাদের বিক্রি কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া বাজেট প্রস্তাবে মূসক নিবন্ধন কার্ড শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি। পাশাপাশি ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, এরা কি সিন্ডিকেট করবে কি না জানতে চাইলে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম ধাপে লাইসেন্স দিয়েছে। যদি প্রয়োজন পরে তারা আরো লাইসেন্স দেবে। সিন্ডিকেট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্স পেল যেসব প্রতিষ্ঠান : বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানি করতে একটি ব্যাংকসহ ১৮ প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো চতুর্থ প্রজন্মের মধুমতি ব্যাংক, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, জুয়েলারি হাউস, রত্ন গোল্ড কর্নার, অ্যারোসা গোল্ড করপোরেশন, আমিন জুয়েলার্স, শ্রীজা গোল্ড প্লেস লিমিটেড, জড়োয়া হাউস প্রাইভেট লিমিটেড, মিলন বাজার, এসকিউ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এম কে ইন্টারন্যাশনাল, বুরাক কমোডিটিস এক্সচেঞ্জ কোং, গোল্ডেন ওয়ার্ল্ড জুয়েলার্স, রিয়া জুয়েলার্স, লক্ষ্মী জুয়েলার্স, বিডিইএক্স গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড লিমিটেড, ডি ড্যামাস দি আর্ট অফ জুয়েলারি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানকে দুই বছরের জন্য এ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানি কার্যক্রম সন্তোষজনক হলে পরবর্তী সময় লাইসেন্স নবায়ন করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা