kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তিন মাসে বিক্রি কমেছে ১৮৫%

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটা

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সঞ্চয়পত্র নিট বিক্রি হয়েছে চার হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৮৫ শতাংশ কম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে নিট সঞ্চয়পত্রের বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৪১২ কোটি টাকা। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎস কর ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের সব লেনদেন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। দুর্নীতি কিংবা অপ্রদর্শিত আয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা বন্ধ করতে ক্রেতার তথ্যের একটি ডাটাবেইসে সংরক্ষণের লক্ষ্যে অভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রে বড় বিনিয়োগে কঠোর হয়েছে সরকার। চাইলেই ভবিষ্যৎ তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই। এখন প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে কর কমিশনারের প্রত্যয়ন লাগে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক ফার্মের নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগছে উপকর কমিশনারের প্রত্যয়ন। এসব বিভিন্ন কড়াকড়ির ফলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ১৭ হাজার ৪২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মূল ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ৭২৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয় সাত হাজার ৫৬৬ কোটি ৯ লাখ টাকা। ফলে তিন মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৬৯৮ কোটি সাত লাখ টাকা। একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বরে মোট ছয় হাজার ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মূল ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ১২৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এই খরচে সুদ বাবদ চলে গেছে দুই হাজার ৬৭৭ টাকা। এ হিসাবে সেপ্টেম্বরে নিট বিক্রির পরিমাণ হচ্ছে ৯৮৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

এদিকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে যে পরিমাণ অর্থ নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছিল, তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ঋণ নেয়। বিক্রি বাড়তে থাকায় সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা ঠিক করা হয়। কিন্তু অর্থবছর শেষে নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিক্রি হয় ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার পেয়েছিল ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। এমন পরিস্থিতিতে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহ করতে সর্বশেষ ২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহার গড়ে ২ শতাংশ করে কমানো হয়েছিল। বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১১.৫২ শতাংশ, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের ১১.২৮ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ১১.০৪ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ১১.৭৬ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা