kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিনিয়োগ বৈচিত্র্য বাড়াতে প্রস্তাব

শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগে ইসলামী পণ্যে গুরুত্বারোপ

রফিকুল ইসলাম   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগে ইসলামী পণ্যে গুরুত্বারোপ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ চালু হয় ৬৩ বছর আগে, ১৯৫৬ সালে। আর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ ও আইন-কানুন তৈরি করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) জন্ম ২৫ বছর আগে, ১৯৯৩ সালে। পুঁজিবাজারের দীর্ঘ পথচলায় নানা আইনকানুন প্রণীত হলেও আজও একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার এখনো গড়ে ওঠেনি। একটি মাত্র পণ্য ইক্যুইটি নির্ভর বাজারে তৈরি হয়নি বিনিয়োগ বৈচিত্র্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মাত্র পণ্যনির্ভর পুঁজিবাজার খুব দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। স্থিতিশীলতা আনতে পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগ বৈচিত্র্য না থাকায় বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে আস্থা রাখতে পারছে না। একটি মাত্র পণ্য থাকায় বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের দাবির পরও দীর্ঘদিন পুঁজিবাজারে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ হয়নি। এবার অর্থ মন্ত্রণালয় পুঁজিবাজারে পণ্য বৈচিত্র্য আনতে উদ্যোগ নিচ্ছে। মূলত দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ পছন্দ বাড়াতে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উৎসাহী ও বৃদ্ধি করতে ইসলামী পণ্য চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, ইসলামী অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারে ইসলামী সিকিউরিটিজ নেই বললেই চলে। কাজেই ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উৎসাহী করতে ইসলামী পণ্যে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বৈচিত্র্য না থাকায় ঠকছেন বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজারেও স্থিতিশীলতা আনা যাচ্ছে না। তবে স্টক এক্সচেঞ্জ সম্প্রতি স্মলক্যাপ বোর্ড চালু করেছে। আরো কিছু নতুন পণ্য আনা গেলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে।’

সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় পার করলেও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বৈচিত্র্য তৈরি হয়নি। ইক্যুইটির পাশাপাশি উচ্চ ঝুঁকির পণ্য তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যত কোনো ফল আসেনি। ব্যাংকনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে বন্ড মার্কেটের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও অজানা কারণেই থমকে আছে এই বাজার। বাংলাদেশ ব্যাংক, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অর্থ মন্ত্রণালয় একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট তৈরির কাজ করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পুঁজিবাজারের ক্রমাগত নিম্নমুখী অবস্থা ও উত্তরণ নিয়ে সম্প্রতি অংশীজনের সঙ্গে এক জরুরি সভা করেছে। সেই সভায় পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে। সেই পরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, বিনিয়োগ বৈচিত্র্য তৈরি করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজার গতিশীল করতে একটি বিস্তর পরিকল্পনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, করপোরেট বন্ড মার্কেট উন্নয়ন, স্বল্প ও মাঝারি শিল্পের অর্থায়নে অল্টারনেটিভ ফান্ড সৃষ্টি বিশেষ করে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, প্রাইভেট ইক্যুইটি ও ইমপ্যাক্ট ফান্ড গঠন, ইসলামী অর্থায়নের জন্য সুকুকসহ ইসলামী পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো ও পোর্টফোলিও বিনিয়োগে ঝুঁকি কমাতে ডেরিভেটিভসহ ইটিএফ পণ্য চালু করা হবে। বিভিন্ন করসহ অন্যান্য প্রণোদনার বৃদ্ধির মাধ্যমে করপোরেট বন্ড মার্কেট উন্নয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি হলে বন্ডের ইস্যুয়ার এবং বিনিয়োগকারী বন্ড ইস্যু ও বিনিয়োগে উৎসাহী হবে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা