kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

বিদেশি কম্পানি তালিকাভুক্ত করতে প্রণোদনা দেবে সরকার

সজীব হোম রায়   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদেশি কম্পানি তালিকাভুক্ত করতে প্রণোদনা দেবে সরকার

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি। এর মধ্যে দেড় কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অথচ ২০১০ সালের বড় ধসের পর আজ পর্যন্ত স্থিতিশীল হয়নি বাজার। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভালো শেয়ারের তীব্র সংকট বাজারে। এর প্রধান কারণ, সরকারি কম্পানি শেয়ার অফলোড এবং বহুজাতিক কম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে না পারা। সরকারি কম্পানির শেয়ার তালিকাভুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সম্প্রতি অংশীজনদের নিয়ে এক বৈঠকে তিনি এ উদ্যোগ নেন। এবার অ-তালিকাভুক্ত বিদেশি কম্পানির শেয়ার তালিকাভুক্ত করতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। পুঁজিবাজার উন্নয়নে এ বিশেষ প্রণোদনা দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একসঙ্গে কাজ করছে। পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদন ঘেঁটে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, বাংলাদেশে চার শতাধিক বহুজাতিক কম্পানি ব্যবসা করছে। এর মধ্যে মাত্র ১৩টি কম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। বছরের পর বছর এসব কম্পানি হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। বাধ্যতামূলকভাবে পুঁজিবাজারে আনার মতো কোনো আইন না থাকায় পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে তারা। যদিও পাশের দেশ ভারত বা পাকিস্তানে পুঁজিবাজারে এসব কম্পানির অনেকই তালিকাভুক্ত। ইউনিলিভার ভারত, পাকিস্তান এবং থাইল্যান্ডের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আসতে কম্পানিটির যত অনীহা। এসব কম্পানিকে পুঁজিবাজারমুখী করতে এবার আরো প্রণোদনা তথা কর ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা সুপারিশে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হবে। সরকারি মালিকানাধীন তালিকাভুক্ত কম্পানির সরকারের হাতে থাকা আরো শেয়ার ঘোষণার মাধ্যমে বাজারে অফলোড করতে হবে। সরকারি অ-তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোকে আইপিও এবং সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে শেয়ার সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে। আর অ-তালিকাভুক্ত বিদেশি কম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিতে প্রয়োজনে বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকার এবং নিজ নজি কম্পানির নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কর্তৃক অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদেশি বহুজাতিক কম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার ব্যাপারে এনবিআর ব্যবস্থা নেবে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে বহুজাতিক কম্পানি তালিকাভুক্ত হলে বিভিন্ন কর ছাড় দেওয়া হয়। বিশেষ করে করপোরেট করে ছাড় পায় তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলো। বিদেশি কম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে আরো কিভাবে কর ছাড় দেওয়া হয় তা দেখছে এনবিআর। পাশাপাশি প্রণোদনা হিসেবে অন্য কিছু দেওয়া যায় কি না তাও চিন্তা করা হচ্ছে। অবশ্য এসব কর ছাড় পাওয়ার আশায় ১৩টি কম্পানি নামমাত্র শেয়ার অফলোড করেছে। আবার তালিকাভুক্ত হলেও পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। এ বিষয় বিবেচনা নিয়ে শেয়ার অফলোডের পরিমাণ উল্লেখ করে কর ছাড় দেওয়া হতে পারে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক এবং অর্থনীতিবিদ ড. আবু আহমেদ বলেন, কোনো বহুজাতিক কম্পানিই স্বেচ্ছায় পুঁজিবাজারে আসবে না। বহুজাতিক কম্পানিগুলোর নিবন্ধনের সময়ই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির শর্ত থাকতে হবে। আর যারা বর্তমানে নিবন্ধিত রয়েছে তাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করতে হবে। আর এসব উদ্যোগ অর্থ মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে। পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের কার্যকরী পদক্ষেপ থাকতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা