kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

চলতি বছরের ২০০ দিনের পুঁজিবাজার চিত্র

বিএসইসির মতামত ছাড়া তালিকাভুক্ত কম্পানির বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নয়

রফিকুল ইসলাম   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিএসইসির মতামত ছাড়া তালিকাভুক্ত কম্পানির বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নয়

মন্দাবস্থার মধ্যে পড়ে খাবি খাওয়া পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। দেশের প্রত্যেকটি খাতের পৃথক পৃথক নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে। যারা খাতসংশ্লিষ্ট নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কম্পানি সম্পর্কে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটা যেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিএসইসি) সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন খাতের কম্পানির বিষয়ে ওই খাতের প্রাইমারি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের কোনো সিদ্ধান্তের আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। মূল্য সংবেদনশীল বা তালিকাভুক্ত কম্পানির ওপর প্রভাব পড়ে এমন সিদ্ধান্তের আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মতামত নিয়ে সিদ্ধান্তে যেতে হবে।

সম্প্রতি বকেয়া পাওনা আদায় নিয়ে দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতির মুখে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কম্পানি গ্রামীণফোন। টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যার সমাধানে অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সমাধানের উদ্যোগ নিলেও কার্যত ফল আসেনি। বিষয়টির সুরাহা করতে আদালতের দ্বারস্থ হয় গ্রামীণফোন।

সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কম্পানিগুলোর একটি গ্রামীণফোন। বাজার মূলধনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় কম্পানি এটি। তবে এক বিশেষ নিরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণফোনের কাছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পাবে বলে দাবি করছে বিটিআরসি। এই টাকা আদায়ের জন্য নানাভাবে চাপও দেওয়া হয়েছে। কম্পানির লাইসেন্স বাতিলের হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছে বিটিআরসি। এমতাবস্থায় কম্পানিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা খুবই উদ্বিগ্ন। একক কম্পানি হিসেবে গ্রামীণফোনে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগকারী রয়েছেন। সরকারের সঙ্গে দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ বিনিয়োগও প্রত্যাহার করেছেন। আর অনিশ্চয়তা ও বিক্রির চাপে কমেছে শেয়ারের দাম।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি খাতের কম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির হুইলিং চার্জ বা গ্যাস বিতরণ মাসুল অর্ধেকের নিচে নামিয়ে আনে। আর এই সিদ্ধান্তে কম্পানিটির আয় কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হলে বাজারে তীব্র প্রভাব পড়ে। 

এদিকে ২০১৫ সালে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বিভিন্ন অভিযোগে তালিকাভুক্ত বীমা কম্পানি স্ট্যান্ডার্ড ইনস্যুরেন্সের লাইসেন্স বাতিল করে। তালিকাভুক্ত কম্পানিটির লাইসেন্স বাতিল করার আগে আইডিআরএ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি, এর হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর স্বার্থের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়নি। যদিও কম্পানিটি সরকারের কাছে আপিল করলে তার ভিত্তিতে পরে লাইসেন্স ফেরত পায়। কিন্তু তত দিনে অনিশ্চয়তাজনিত কারণে কম্পানিটির শেয়ারের দাম কমতে কমতে তলানিতে নেমে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত হন অসংখ্য বিনিয়োগকারী।

খেলাপি ও সংকটে জর্জরিত পিপলস লিজিং কম্পানিকে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুঁজিবাজারের নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত এই কম্পানিটিকে অবসায়ন করা হলে বিনিয়োগকারীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছরের অবসায়নের কথা বাংলাদেশ ব্যাংক জানালে অন্যান্য কম্পানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দুর্বল ও ভঙ্গুর আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বিক্রি বেড়ে যায়। তবে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে কোনো পরামর্শ বা আলোচনা করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের পর স্টক এক্সচেঞ্জে কম্পানিটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উদ্যোগে দেখা যায়, পুঁজিবাজার স্থিতিশীল ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন সেক্টরের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ওই উদ্যোগে বলা হয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর প্রাইমারি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা মূল্যসংবেদনশীল বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতামত নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা