kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

এক অঙ্কের সুদ এখন সোনার হরিণ

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি বেসরকারি ৩৭ ব্যাংক

জিয়াদুল ইসলাম   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি বেসরকারি ৩৭ ব্যাংক

বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক গত অক্টোবর মাসে বড় ও মাঝারি শিল্পে মেয়াদি ঋণের সুদারোপ করেছে সাড়ে ১২ থেকে সাড়ে ১৫ শতাংশ। ক্ষুদ্র শিল্পের মেয়াদি ঋণ, চলতি মূলধন ঋণ, ব্যবসা ও বাণিজ্য ঋণ এবং গৃহায়ণ খাতেও একই হারে সুদারোপ করা হয়েছে। এর চেয়েও বেশি সুদ নেওয়া হয়েছে ভোক্তা, ক্রেডিট কার্ড ও নন-ব্যাংক প্রতিষ্ঠান খাতে। এর মধ্যে ভোক্তা ঋণে ১৬ থেকে সাড়ে ১৯ শতাংশ, ক্রেডিট কার্ডে ২৫ শতাংশ এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ১৭ শতাংশ থেকে সাড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিয়েছে ব্যাংকটি। শুধু এবি ব্যাংকই নয়, বেসরকারি খাতের বেশির ভাগ ব্যাংকের সুদের হারের চিত্র প্রায় একই রকম। অর্থাৎ ঋণের সিঙ্গেল ডিজিট বা এক অঙ্কের সুদহার বাস্তবায়ন এখন অনেকটা সোনার হরিণের মতোই। গত ১৬ মাসে প্র্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে সরকারি-বেসরকারি মিলে মাত্র ১১টি ব্যাংক। এখনো বেসরকারি খাতের ৩৭টি ব্যাংকের ঋণের সুদহার ১২ থেকে ২০ শতাংশের ঘরে রয়েছে।   

ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা বলছেন, খেলাপিঋণের আধিক্য ও সঞ্চয়পত্রের বাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারণ না হওয়ায় তাঁদের তহবিল খরচ বেড়ে গেছে। এখন আমানত পেতেই অনেক ব্যাংকে ৬ থেকে ১১ শতাংশ পর্যন্ত সুদ গুনতে হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জানা যায়, ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাংকের মালিকরা গত বছর সরকারের কাছ থেকে একের পর এক সুবিধা আদায় করে। এর মধ্যে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা, বাণিজ্যিক ব্যাংক কর্তৃক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত নগদ জমা বা সিআরআর সংরক্ষণের হার কমানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ধারের নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থা রেপোর সুদহার কমানো হয়। এসব সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যই ছিল সুলভ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। আর নানা সুবিধা পাওয়ার পর ব্যাংকের উদ্যোক্তারা গত বছরের জুন মাসে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দেন এবং একই বছরের ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু গত ১৬ মাসে বেসরকারি ৪১টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র তিনটি ব্যাংক এক অঙ্কের ঋণের সুদহার কার্যকর করেছে। আর গত বছরেই সরকারি খাতের আটটি ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনে। 

সর্বশেষ গত ৫ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ব্যাংকঋণের সুদহার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেন। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ও বেসরকারি ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামাতে চাই। কিন্তু আমরা কম সুদে আমানত পাচ্ছি না। ব্যক্তি আমানত পেতেই ৯ শতাংশ সুদ গুনতে হচ্ছে। আবার সরকারি আমানতও ৬ শতাংশে পাচ্ছি না। যদি ৬ শতাংশে আমানত পাওয়া যায়, তাহলে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ কার্যকর করা সম্ভব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা