kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্প

ভারতের অংশে শেষ, পিছিয়ে বাংলাদেশ

প্রকল্পের মেয়াদকাল বেড়ে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত হতে পারে

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারতের অংশে শেষ, পিছিয়ে বাংলাদেশ

আখাউড়া-আগরতলা রেললাইনের জন্য বাংলাদেশ অংশে এখনো মাটি ভরাট চলছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন থেকে শিবনগর সীমান্তের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। ওই অংশে কাজ চলছে আখাউড়া-আগরতলা রেললাইনের। ওই ১০ কিলোমিটারে কাজের দেখা মিলল দুই জায়গায়। যেখানে সর্বসাকুল্যে কাজ করছেন ১০-১৫ জন শ্রমিক। মাটির ভরাটকাজের কয়েকটি যন্ত্র জ্বালানি তেল না থাকায় বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে ওই প্রকল্পের কাজে এমন চিত্রই লক্ষ্য করা যায়। যে কারণে চলতি বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদকাল বেড়ে আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত করা হতে পারে।

আখাউড়া-আগরতলা ১৫ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে পাঁচ কিলোমিটার ভারতে ও ১০ কিলোমিটার বাংলাদেশে হবে। এরই মধ্যে ভারতের আগরতলা অংশে রেলপথ নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। অন্যদিকে বাংলাদেশ অংশে মাটি ভরাট, অবকাঠামো ও কালভার্ট নির্মাণকাজ চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৮০ কোটি রুপি। এর মধ্যে ভারতের পাঁচ কিলোমিটার অংশের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮০ কোটি রুপি ও বাংলাদেশ অংশের ১০ কিলোমিটারের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি রুপি (৪৭৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা)। এর মধ্যে ভারত থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে ৪২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অবশিষ্ট ৫৭ কোটি ছয় লাখ টাকা বাংলাদেশের সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ অংশের ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন খাতে এ টাকা ব্যয় করা হয়।

এ বছরের মধ্যেই কাজ শেষ করার কথা জানানো হয় উদ্বোধনের সময়। প্রকল্পটি চালু হলে প্রাথমিকভাবে মালবাহী ট্রেন চলাচল করার কথা বলা হলেও পরবর্তী সময় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের আশা করছে ভারত। যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা গেলে আগরতলার সঙ্গে কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকার দূরত্ব কমে গিয়ে যোগাযোগ সহজ হয়ে যাবে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের কাজ এখন দৃশ্যমান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ভারত সীমান্তঘেঁষা শিবনগর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে পুরো ১০ কিলোমিটার অংশেই প্রাথমিকভাবে মাটি ও বালু ফেলার কাজ শেষ হয়েছে।

মনিয়ন্দের গোপালপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চার-পাঁচজন শ্রমিক কালভার্ট নির্মাণকাজের রড তৈরি করছেন। সেখানে কথা হয় মো. জামাল নামের এক নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, শিবনগর সীমান্তেও একই ধরনের কাজ চলছে।

ভারত সীমান্তঘেঁষা শিবনগর এলাকার ২০২৬/ ১-এস পিলারের কাছে ১০ জনের মতো শ্রমিককে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। তাঁরা জানালেন, এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে। ওই জায়গাটি ভারত সীমানায় পড়লেও কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে বিধায় বাংলাদেশি শ্রমিকরাই কাজ করছেন।

কথা হয় কাজ দেখতে আসা মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য (মেম্বার) মো. আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে এই রকম গতিতেই কাজ হচ্ছে। তবে নিয়মিতই কাজ হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মোবাইল ফোনে কথা বলে ওই প্রকল্পের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি জানান, এ প্রকল্প নির্মাণের মেয়াদকাল বেড়ে আগামী জুন নাগাদ হতে পারে এবং ওই সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের প্রকৌশলী মো. বেনজীর আহমেদ জানান, মাটি ও বালু ভরাটের কাজ অনেকটাই শেষ হয়েছে। এখন ইমিগ্রেশন ভবন, গেস্টহাউস ও কালভার্ট নির্মাণে কাজ করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে কি না এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি।

২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ স্থাপনের চুক্তি করেন। ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা