kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

আয়কর মেলা নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

এ অর্থবছরে রিটার্ন জমা হবে ৩০ লাখ

১৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে আয়কর মেলা
ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িতদের কর ফাঁকির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এ অর্থবছরে রিটার্ন জমা হবে ৩০ লাখ

আগামী বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে শুরু হচ্ছে আয়কর মেলা। করসেবা প্রদান ও কর সচেতনতা বাড়াতে দশমবারের মতো দেশব্যাপী আয়কর মেলার আয়োজন করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে সপ্তাহব্যাপী মেলা চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। এবার করদাতাদের সহজে ও দ্রুত সময়ের আয়কর পরিশোধের সুবিধার্থে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করছে এনবিআর। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, মেলায় বিকাশ, রকেট, ইউপে, শিওরক্যাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ই-পেমেন্ট সেবা দেওয়া হবে। এতে করদাতারা সহজে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কর দিতে পারবেন। এ অর্থবছরে ৩০ লাখ রিটার্ন জমা হবে এবং মেলায় আয়কর জমা হতে পারে তিন হাজার কোটি টাকা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা রাজস্ব ভবন সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িতদের কর ফাঁকির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের সদস্য কালিপদ হালদার ও কানন কুমার রায়সহ মেলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীতে মেলা হবে মিন্টো রোডের অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে। এ ছাড়া সব জেলা শহরে চার দিন এবং ৪৮টি উপজেলায় দুই দিন মেলা হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে আটটি গ্রোথ সেন্টারে এক দিন ভ্রাম্যমাণ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিবছরের মতো করদাতারা এবারের মেলায়ও আয়কর বিবরণীর ফরম দাখিল থেকে শুরু করে কর পরিশোধের জন্য ব্যাংক বুথ পাবেন। তাঁদের জন্য মেলায় সহায়তা কেন্দ্রে অপেক্ষা করবেন কর কর্মকর্তারা। একই ছাদের নিচে মিলবে সব সেবা। করদাতারা শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনলেই হবে।

তিনি জানান, মেলায় ই-টিআইএন নিবন্ধন ও আয়কর বিবরণী গ্রহণ, কর পরিশোধ, আয়কর বিবরণী পূরণে সহায়তা এবং কর শিক্ষা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে চার কোটি মানুষ সামর্থ্যবান আছে। এ সামর্থ্যবানদের মধ্যে আয়কর দেন কমসংখ্যক লোক। কর-রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে আয়কর মেলা অনুপ্রেরণামূলক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে করদাতারা উৎসবমুখর পরিবেশে আয়কর বিবরণী দাখিল ও কর পরিশোধ করতে পারেন। তাই প্রতিবছর মেলার পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে।

করদাতাদের সুবিধার্থে এবারের মেলায় করসংক্রান্ত সব তথ্যসংবলিত একটি ওয়েবসাইট এবং কর পরিশোধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, যাঁরা বেশি আয়কর দেন, তাঁরা যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে সেটি পরিশোধ করেন, এ জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। যেসব অ্যাকাউন্টিং ফার্ম তাদের করের হিসাব করে, সেসব ফার্মের হিসাব কার্যক্রম অডিট করা হবে। যদি কোনো ফার্ম হিসাবের ক্ষেত্রে অনিয়ম করে, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

জর্দা ব্যবসায়ী প্রতিবছর সেরা করদাতা হন সাংবাদিকদের এমন তথ্যে তিনি বলেন, জর্দা ব্যবসায়ী গাউস মিয়া প্রতিবছর সেরা করদাতা হয়। এটি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। নিয়ম অনুযায়ী কেউ কর দিয়ে সেরা করদাতা হতেই পারে। তবে আগামীতে এসব বিষয়ে আরো বেশি যাচাই-বাছাই করা হবে বলে তিনি জানান।

এবারের মেলাও বরাবরের মতো নতুন করদাতারা ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিতে পারবেন। আবার পুনর্নিবন্ধন করে ই-টিআইএন নিতে পারবেন পুরনো করদাতারা। এদিকে আগামী বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জাতীয়ভাবে সেরা করদাতাদের ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা